বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি


আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।

মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।

লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।


শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১১

বারিধারা

ভোরের আলো ফুটবার আগে থেকেই বৃষ্টি টা আরম্ভ হয়েছে। জানালা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা ঢুকতেই অয়নের ঘুম ভাঙ্গে। এর আগে মেঘ ডাকার শব্দে কয়েকবার ঘুম ভেঙ্গেছিল তাঁর । গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ছিটা বাতাসের সাথে সাথে জানালা দিয়ে ঢুকছে। মাথার কাছের জানালার গ্রীলের ফাঁক গলে সেই বৃষ্টির ফোঁটা এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে বিছানার চাদর , বালিশ , অয়নের ঘুম কাতুরে মুখ।

মেঘেদের জ্যামে আটকে গিয়েছিল সূর্যের আলোর পথ। ঝির ঝির করে বৃষ্টি প্রথমে আলপনা আঁকে গাছের ধূলা মাখা পাতায়, আলপনা আঁকে জানালার কাঁচে, কংক্রীটের শুকনো দেয়ালে। বেলা বাড়ে , সাথে সাথে বাড়ে আকাশে মেঘের ব্যস্ততা , বাড়ে বৃষ্টির ঝংকার। এক সময় বৃষ্টির হুংকারে স্তব্ধ হয়ে যায় অন্য সব জগতিক শব্দ।

অনেকক্ষন বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে উঠে বসে অয়ন, মা'র ডাকে।
এই ঘর বর্ষায়ও মা'র বিরাম নেই - উঠতে উঠতে ভাবে অয়ন। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ১০ টা বেজে ৩০।

বাইরের আলো দেখে বুঝার উপায় নেই এত বেলা হয়ে গেছে !!! জানালা দিয়ে বাইরে তাকায় অয়ন । পাশের বহুতল ভবনের বন্ধ জানালা আর দরজা ছাড়া আর কিছুই দেখার নেই অবশ্য ।

নাস্তা শেষ করে অয়ন বসার ঘরে এসে বসে। জানালা খুলে দিয়ে আবার বাইরে তাকায় । অঝোর ধারায় তখনো চলছে বৃষ্টির তান্ডব। তাদের পুরানো একতলা বাড়ীর এই ঘর থেকেই বাইরের টা ভালো দেখায় ।

পিচ ঢালা চিরচেনা রাস্তা তখন খরস্রোতা নদীর মত। প্রবল বেগে কাদা মেশানো পানি ছুটে চলছে রাস্তার ডুবিয়ে। উপর থেকে আসা স্বচ্ছ পানির ফোঁটা এসে একাত্মতা ঘোষনা করছে সেই পানিতে, বাড়ছে ছুটে চলা পানি গতি । রাস্তার ওপাশের এক টুকরো খোলা মাঠে পানি জমেছে ঘাসের অলি গলিতে। সেখানে জলখেলায় ব্যস্ত কয়েকটা কিশোর। একটা রিকশা এর মধ্যে আরোহী নিয়ে চলে গেল খরস্রোতা রাস্তার উপর দিয়ে। ভিজে জুবুথুবু রিকশাচালক অনেক কষ্টে বয়ে চলেছে জীবনের ভার।

বৃষ্টির একটা বড় দোষ হলো, শুধু বাইরে ভেজায় না , মনের ভিতরটাও আর্দ্র করে তুলে, স্মৃতির কণা গুলো প্রচন্ড দাপাদাপি করে মাথার ভিতর। অয়নের ভিতরেও চলছে সেই ব্যস্ততা। হঠাৎ কলিং বেলের শব্দে ঘোর ভাঙে তাঁর।

এই বৃষ্টিতে আবার কে এল - ভাবতে ভাবতে দরজার দিকে এগোয় ।

দরজা খুলে স্থির হয়ে যায় । সম্বিত ফিরে পেতে সময় নে খানিকটা । সামনে দাঁড়িয়ে রুনা। পিছনে তখনো বৃষ্টির নাচন , পিচ ঢালা রাস্তায় স্রোতের বয়ে চলা। আর তারো পিছনে অয়নের স্মৃতির দপদপানি।

বছর দুয়েক আগে কোন এক শীতের দিনে অয়নকে এক ফেলে রুনা অন্য কারো হাত ধরেছিল উষ্ণতার খোঁজে। ২ বছর পর আজ সে। কয়েক দিন আগে সে আবার অয়নের জীবনে ফিরে আসতে চেয়ে টেক্সট করেছিল। সেই টেক্সট এর রিপ্লাই দেয়নি সেদিন ।

আজ সে অয়নের মুখোমুখি। কিংবা অয়ন তাঁর মুখোমুখি।

বাইরে তখনও বৃষ্টির অবিরাম ধারা ।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন