যদি কোন কক্ষের সংজ্ঞা দেয়া যায় তাহলে এই কক্ষটিও তার ভিতর পড়বে, যেমন এর চারপাশে দেয়াল আছে, উপরে ছাদ আছে, একটা জানালা আর একটা দরজা আছে, ভিতরে ৬ ফুট বাই ৫ ফুট জায়গাও আছে। দরজা দিয়ে ঢুকলেই হাত দেড়েক পরেই একটা লোহার খাট, সেই দরজা দিয়ে কোনমতে ঢুকা যায় কক্ষটিতে, সেই খাটেও শোয়া যায়। সাথেই সেই রুমের এক তৃতিয়াংশের সমান একটা বাথরুম, সেখানে কোনমতে গোছল ও প্রাকৃতিক কাজ গুলো সারা যায়।
সেই কক্ষের সেই খাটেই শুয়ে আছে জরিনার মা। মাথার কাছে মশারী গুটিয়ে ঝুলিয়ে রাখা, দেয়ালের আরেক পাশে ২ টা পেরেকের সাথে দড়ি বেঁধে কাপড় চোপড় ঝুলানো মশারীর মতই। আর খাটের নিচে একটা প্লাস্টিকের গামলায় নারিকেলে তেলের শিশি, একটু পান, চুন, সুপারী।
তার নিজের কোন একটা নাম ছিল কোন এক সময় কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নিজের নামটি বিলোপ হয়ে "জরিনার মা" নামেই এখন পরিচিত সবার কাছে। জরিনা মারা গেছে প্রায় ১৮/২০ বছর হোল কিন্তু নামটা জড়িয়ে দিয়ে গেছে তার মা'র সাথে। জরিনার মা'র বয়স হয়েছে। কিন্তু বয়স কত হয়েছে , সঠিক করে সে নিজেও বলতে পারেনা , অন্যরাও বলতে পারেনা। ছোটবেলায় শুনেছিল যে বছর তার নানা মারা গেল সেই বছরেই চৈত মাসে নাকি তার জন্ম। কিন্তু সেটা কত খ্রীস্টাব্দ বা বঙ্গাব্দ , সেই হিসাব রাখার প্রয়োজন মনে হয় কেউ করেনাই। তার শরীরে বয়ছের ছাপ দেখে আন্দাজ করে বয়স পঞ্চাশোর্দ্ধ তো হবেই।
জরিনা যেদিন মারা গেল , তার বছর খানেকের মাথায় জরিনার বাবা ও আরেকটা বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেল , তারপরে ভাগ্যের সন্ধানে তার ঢাকায় আগমন। খুব স্বাভাবিক কাহিনী, আর দশ পাঁচ টা স্বামী বিতাড়িত মেয়েদের মত, ভাগ্য বিতাড়িত মেয়েদের মতই। তাদের গ্রামেরই দূর সম্পর্কের কোন এক আত্মীয়র বাসায় আশ্রয় আর তিনবেলা খাবারের নিশ্চয়তায় চলে আসে ঢাকায় জরিনার মা। তার বিনিময়ে ঝি-বুয়ার কাজ। ভদ্র ভাষায় যেটাকে বলে গৃহ পরিচারিকা।
সেই থেকে জড়িয়ে যাওয়া পরিবারটির সাথে। পরিবারটি ভাড়া বাসা ছেড়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে উঠেছে। সেই ফ্ল্যাটেই রান্নাঘরের পাশেই জরিনার থাকার এই কক্ষটি, সাথের জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকতে লজ্জা পায় , সূর্যের আলো ও অবহেলা করে । আর এই কক্ষেই প্রায় একযুগ পার করে দিয়েছে জরিনার মা। বয়সের কারনেই হোক আর অনিয়মের কারনেই হোক তার শরীরে এখন বাসা বেঁধেছে অসুখ-বিসুখ। একের পর একটা অসুখ লেগেই থাকে এখন জরিনার মা'র, সেই সাথে ভেঙ্গে পড়ছে শরীর পুরোন বাড়ীগুলোর মত।
এখানেই, এই কক্ষেই রান্নাঘরের চুলা থেকে আসা গরম বাতাসে "গৃহ পরিচারিকা" জীবনের উষ্ণতা খুঁজে জরিনার মা।
২.
রাত নেমেছে শহরে। সোডিয়াম বাতি দিয়ে দিবালোক কে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা বাইরে রাজপথে, আর ঘরে ঘরে পর্দার আড়ালে থাকা বাসা বাড়ী গুলোতে টিউব বাতির আলোয় দিনের শেষ সময়ের ব্যস্ততা।
সামনের বিলবোর্ডের নিয়ন আলোর প্রতিচ্ছায়া পড়েছে আনোয়ার সাহেবের বেডরুমের জানালার কাঁচে। প্রতিদিনের মত আজও অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে আনোয়ার সাহেব ব্যাস্ত হয়ে যান টিভিতে খেলা দেখা নিয়ে। ইএসপিএন এ কোন প্রিমিয়ার লীগের খেলা দেখছিলেন আর উত্তেজনায় মাঝে মাঝে নিজের ডান পা শক্ত করে ফেলছিলেন তিনি। বুঝি গোল টা তিনিই দিয়ে দিতেন মাঠে থাকলে !!!!
মাথার উপর ফ্যানটা দৃশ্যমান হয়ে ঘুরছে সাথে এ/সি ও চলছে। বেডরুমের এক পাশের দেয়ালে এলসিডি টিভি ঝুলানো আরেক পাশে বিছানা। পুরো রুমের ইন্টেরিয়র যেন সৌন্দর্য থেকে জৌলুস টাই ফুটিয়ে তুলছে বেশী করে। বিদেশী টাইলস ফিটিংস এর মেঝেতে পায়ের শব্দে ঘুরে তাকান আনোয়ার সাহেব। কখন যে তার মিসেস দরজা খুলে ভিতরে ঢুকেছে, খেয়াল করেন নাই। পায়ের শব্দে খেয়াল হয়। তাকিয়েই আবার চোখ ফিরিয়ে খেলাতেই মনোনিবেশ করেন।
- সংসারের খোঁজ খবর কিছু কি রাখো ? মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে, চেহারায়, পোশাকে নব্য ধনীর আভিজাত্য নিয়ে রুমে ঢুকেই প্রশ্ন টা মিসেস আনোয়ারের।
- ঐটা তোমার ডিপার্টমেন্ট , আমারে বলছো কেন ? টিভির দিকে তাকিয়েই উত্তর আনোয়ার সাহেবের।
- হুম ভালই , আমার উপর সব ছেড়ে দিয়ে উনি আনন্দে পা নাচাবেন আর খেলা দেখবেন।
ঝাঁঝের সাথেই কথা গুলো বলা। গলা শুনে আনোয়ার তাকান বউয়ের দিকে।
- কি হয়েছে আবার ?
- কি আর হবে !! জরিনার মা'রে নিয়ে তো আর পারা গেল না। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তেছে। একটা কিছু করা দরকার।
- ডাক্তার দেখাও।
- ডাক্তার কি কম দেখাচ্ছি নাকি। আজ কতদিন হল জ্বর । সংসারের কাজ করবে কি, তারেই টানতে হচ্ছে আমার। ডাক্তার একগাদা টেষ্ট দিছে আবার।
- তাহলে বাড়ী দিয়ে আসো। ঝামেলা শেষ হয়ে যায়।
- আর পরে এইসব সামলাবে কে শুনি ?
আনোয়ারের মুডটাই নষ্ট হয়ে যায়। এইসব ঝামেলা নিয়ে কখনই কথা বলতে ভালো লাগে না তার। টিভির দিকে তাকিয়ে অন্য কিছু দেখার চেষ্টা করে সে।
- আমি কি করতে পারি এখন ? আনোয়ার এবার তার মিসেস এর দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করে ।
- তোমার কিছু করতে হবে না। মন্টু কে পাঠাবো বাড়িতে , কিছু টাকা লাগবে। ওর আসা যাওয়া সাথে আরেকজন কে নিয়ে আসা । আর জরিনার মা'কে কিছু টেস্ট করাবো , টাকা লাগবে।
- ওকে কর। যা ভালো মনে কর। কালকে টাকা তুলে নিও।
মিসেস আনোয়ার আর কিছু বলেনা। স্বামীর এরকম নিস্পৃহ কন্ঠ শুনে গজ গজ করতে বের হয়ে যায় রুম থেকে।
জরিনার মা বেশ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ। মাঝে মাঝে জ্বর আসে, ঠান্ডা , কাশী তো লেগেই আছে। কয়েক বারই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে। তার জ্বর আসলে মিসেস আনোয়ারেরই চিন্তা-টেনশন হয় বেশী। তার স্বার্থেই তাকে যত দ্রুত সম্ভব ওষুধ খাওয়ানো হয়, সুস্থ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। বোকা জরিনার মা সেটা বুঝে না, সে তার "খালাম্মার" ভালোবাসায় মুগ্ধ হয় আর উপরওয়ালার কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করে তার খালাম্মার শান্তির জন্য।
আনোয়ারের সংসারে নতুন অতিথি আসার কয়েকদিনই পর জরিনার মা'র আগমন। তাদের দ্বীতিয় সন্তানের যখন তিন মাস বয়স তখন থেকেই জরিনার মা এই সংসারের সাথে। সংসারের যাবতীয় কাজের সাথে সাথে সেই বাচ্চার যাবতীয় দেখ ভাল, কাঁথা - কাপড় পরিষ্কার থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত তার আঁচলের ছায়ার নিচেই রেখেছে সে।
তার নিজের সন্তানের হারানো মুখ খুঁজে পায় সে ছোট সন্তানের মুখে কিংবা হয়তো নিছক ভালোবাসার টানেই কিংবা আবহমান বাঙালী মায়ের শাশ্বত রুপ টাই ফুটে উঠে জরিনার মা'র ভালোবাসায়।
সময় সময় গৃহ পরিচারিকার কাজের মাঝেও সে শান্তি খুঁজে পায় সেই মাতৃত্বের মত ভালোবাসার মাঝে। সেই সন্তানের অসুখ বিসুখে তাই পাগলের মত রাত জেগে বসে থেকে সেবা করে যায় জরিনার মা।
সেই সেবার বিনিময় মূল্য নেই সেখানে শুধু মায়ের মত একরাশ ভালোবাসাই, শুধুই হৃদয় নিংড়ানো নিষ্পাপ ভালোবাসা।
৩.
রিমি- এইস এস সি ফার্ষ্ট ইয়ারে পড়া মেয়ে, আনোয়ার দম্পতির ২য় সন্তান। এই বয়সের মেয়েদের মতই সে বেশী বেশী অভিমানী, বেশী বেশী আবেগী। অল্পতেই যেমন উৎফুল্ল হয় প্রচন্ড তেমনি অল্পতেই মনে হয় তার থেকে কষ্টে আর কেউ নাই। মুখে সদ্য গজানো ব্রন দেখে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়, তেমনি অল্পতেই খিল খিল করে হাসির ফোয়ারা ছুটে, সেই হাসিতে সিক্ত হয় শরীর, মন এমন কি পাশে বসা বাসের সিটের মানুষটিও কিংবা পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোন অজানা ব্যাক্তি।
কলেজ থেকে আসার পরই রিমি আজ মন খারাপ করে বসে আছে তার ঘরে। ঘরের এক পাশের জানালার সাথে লাগানো বিছানায় বসে চুপ করে তাকিয়ে আছে বাইরে। তার ঘরের জানালা দিয়ে পাশের বাড়ীর বারান্দা ছাড়া আর তেমন কিছুই দেখা যায়না। কলেজ থেকে এসে যখন জানতে পারে যে জরিনার মা কে কাল সকালে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়া হবে , তখন থেকেই মন খারাপ করে বসে আছে সে। বয়সের কারনেই হোক আর বাস্তবতা বিবর্জিত চিন্তার কারনেই হোক, রিমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা তাকে বিদায় দেবার সিদ্ধান্ত। কিছুও বলার নাই। মা'র কথাই সব । আর ঢাকা শহরে একজন অসুস্থ্য মানুষকে কে-বা টেনে নিয়ে বেড়াবে !!!! এত সময় কই মানুষের ? এত মানবিকতা বা কই মানুষের !!!!
দুপুর গড়িয়ে বিকাল। সূর্য দেবতা অনেক আগেই ঢাকা শহরের ভবন গুলোতে ঢাকা পড়ে গেছে। বিকেলের লম্বা ছায়ায় সামনে জানিয়ে দিচ্ছে সেদিনের শেষ সময়ের ব্যস্ততা। একটা কাক কা কা শব্দে ডেকে যাচ্ছে কোন বাড়ীর ছাদে কিংবা বিদ্যূতের কোন তারে বসে। রিমিদের পাশের বাড়ীর বারান্দায় তার ক্ষীন আলো এখনো জানিয়ে দিচ্ছে তার ম্রিয়মান উপস্থিতি, সে বারান্দার টবে রাখা গাছের পাতাগুলোর সাথে সে আলো কথা বলছে যেন । অবশ্য রিমির সেদিকে মনযোগ নেই।
জানালা টা খোলা , সে জানালার কাঁচে ধূলা আর বাতাসের মিলিত লুটোপুটির খেলায় আর হেঁটে যাওয়া পোকার পায়ের ছাপে কোন শিল্পির বিমূর্ত চিত্র শিল্প যেন আঁকা হয়েছে সে কাঁচে। সে জানালার কাঁচ ছাপিয়ে রিমির দৃষ্টি বাইরের সেই বারান্দায়। তার অতীতের দৃশ্য গুলো যেন জীবন্ত ছবিতে দেখতে পাচ্ছে সে বারান্দায়। টবের গাছ গুলোর পিছনে যেন সে দেখতে পায় লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে ভালো - বড় ফলটা, খাবার টা , মাছের বড় টুকরা টা কিংবা সবার থেকে একটু বেশী পরিমান তার পাতে দিয়ে পান খাওয়া ঠোটে প্রশাস্তির হাসি। মায়ের আদেশ অমান্য করে চুরি করে তার ছোট ছোট আবদার পূরনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠা মানুষটা। সেই আবদার পূরনের পর সেই স্নেহ মাখা বোকা হাসি , সারা সংসারের হাড়ভাঙ্গা কাজের পরেও ঘুমোতে যাবার আগে মাথায় তেল দিয়ে বিলি করে ২ বেনী করে চুল বেঁধে তারপর রাত জেগে তাকে গ্রামের ''গপ্পো", নিজ চোখে দেখা ভূতের "গপ্পো" শোনানো। জরিনার মা'র মুখখানি খুব স্পষ্ট হয়ে যেন আবার অস্পষ্ট হয়ে যায় আস্তে আস্তে গোধূলীর আলো মিলিয়ে যাবার সাথে সাথে।
রিমি হঠাৎ করেই ডুকরে কেঁদে উঠে।
জরিনার মা বিকাল থেকেই অঘোরে ঘুমোচ্ছে। জ্বর নাই এখন শরীরে কিন্তু প্রচন্ড দূর্বল। ডাক্তারের দেয়া হাই এন্টিবায়োটিক খেয়ে জ্বর সেরেছে কিন্তু দূর্বলতা বাসা বেধেছে তার বিনিময়ে। গ্রাম থেকে আরেকজন লোক আসছে কালকেই, তাই আর টেস্ট করানোর খুব গরজ করেনি মিসেস আনোয়ার, বরং তাকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দিয়েই ঝামেলা শেষ করতে চান তিনি।
কয়েক হাজার টাকা দুপুরে গিয়ে নিজ হাতে দিইয়ে এসেছেন জরিনার মা'র হাতে, যাতে দেশে গিয়ে কিছু করে বাঁচতে পারে, যদিও সে এই বয়সে, এই শরীরে বাঁচার উপকরন কিভাবে সংগ্রহ করবে , তা অস্পষ্ট। জরিনার মা সেই টাকা নিয়ে অপেক্ষা করে সেই সকালের, যদিও ভাবেনি তাকে এভাবে যেতে হবে এই সংসার থেকে। আপনার লোক মনে করেই কাজ করে এসেছে এতটি বছর ধরে সে।
অপেক্ষা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়ে তার তেল চিটচিটে বালিশে মাথা রেখে।
সেই টাকা হাতে নিয়েই ঘুমোচ্ছে জরিনা'র মা। ঘুমের মধ্যেও হাতের মুঠোয় টাকাগুলো শক্ত করে ধরে রাখা, জীবন নামক সময় টুকুর অবশিষ্টাংষ টুকুর জন্য নিরাপত্তা যেন ধরে রেখেছে।
যদিও সে জানেনা গ্রামে কার কাছে যাবে, কোথায় যাবে, একা একা এই বয়সে বেঁচে থাকতে গেলে কেমন করে তা সম্ভব। তার বাবার বাড়ী কত আগেই নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে , দুই ভাই আছে কিন্তু কোথায় চলে গেছে, কি করে তাও জানেনা। গ্রাম বলতে সেই আগের চেহারাই ভাসে তার চোখে , সেই মাটির রাস্তায়, দুপাশে বাঁশের নতজানু হয়ে পরশ সেই পথে। জরিনার মা জানেনা সেই রাস্তা এখন পিচ ঢালা পাঁকা রাস্তা, সেই বাঁশ ঝাড় উজাড় হয়ে এখন সেখানে মানুষের বসতির চিহ্ন।
এক সময় রাত গভীর হয়, জরিনার মা তবুও গভীর ঘুমে অচেতন। ঘুমের মধ্যেই স্বপ্ন দেখে সে, তার গ্রামে সেই মেঠো পথে দাঁড়িয়ে আছে তার মেয়ে জরিনা। আস্তে আস্তে কাছে যায়। এক সময় দেখে জরিনা না, সে রিমি । আবার দেখে সে জরিনা। আর সামনে যেতে পারেনা সে। পা যেন কেমন শক্তিহীন হয়ে পড়ে তার, পুরো শরীরের শক্তি ও যেন লোপ পায় আস্তে আস্তে।
ঘুমের মধ্যেই সে নিথর দেহে প্রতীক্ষা করে সকালের ।
বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি
আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।
মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।
লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন