আজ মা দিবস । মা'কে ভালোবাসতে দিন লাগে না তবুও একটা দিন একটু বেশী করে মা কে ভালোবাসার আইডিয়া টা খারাপ না। আজ তাই ফেসবুকে মা কে নিয়ে স্ট্যাটাসের ছড়াছড়ি, হয়তো অনেকে মা'র জন্য টুকটাক গিফট কিনবে ।
শীর্ষেন্দুর পার্থিব উপন্যাসে মা কে নিয়ে একটা লেখা পড়েছিলাম -মানুষ যখন ভয় পায়, যখন বিপদে পড়ে, যখন মনে হয় একা , তখন ভয়ার্ত শিশুর মত মা'কেই আকড়ে ধরে। " আসলেই মা'র প্রতি অনুভূতিই এমন । পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
মা'কে নিয়ে কিছু লিখতে পারিনা, আজও মা'কে নিয়ে লিখবো না। যদিও আজ মা দিবস, কিন্তু আমি লিখতে বসেছি আমার বড় বোন কে নিয়ে।
৩ বছরের ব্যবধানে বাবা - মা যখন মারা গেল, বড় বোন আবির্ভুত হল মা -বাবা তথা অভিভাবক এর ভূমিকায়। তখন সে মাত্র এস এস সি পরীক্ষা দিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে। আর আমি সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র।
তীব্র অভাবের মধ্যে দেখেছি তাঁকে নিজে না খেয়ে আমাদের খাইয়েছে। গুনে গুনে টাকা দিয়েছে বাজারের জন্য।
পড়ালেখা নিয়ে শাষন করেছে অভিভাবক এর মতন , আবার ঈদের আগের দিন রাত্রে একসাথে কেঁদেছি সব ভাইবোন মিলে , বাবা মা ছাড়া ঈদ পালনের কষ্টে।
একটা সময় ছিল , যখন ২ ঈদ ছাড়া মুরগি খাওয়া সম্ভব ছিলো না, তখন দেখেছি ঈদের দিন আমাদের পাতে মাংস তুলে দিয়ে নিজে হাড় চিবিয়ে খেত আর আমাদের স্বান্তনা দিত - "মাংস ভালো লাগে না খেতে। "
ঈদের ৩/৪ মাস আগে থেকে সংসার খরচ থেকে টাকা বাঁচিয়ে রাখতো আমাদের ঈদের কাপড় কিনে দেবার জন্য, নিজের কিছুই কেনার চিন্তা করতো না ঈদে। ঐটুকুন বয়সে, এইস এস সি বা ডিগ্রী পড়ার সময় থেকেই নিজের নতুন কাপড়ের ইচ্ছা কে দমিয়ে রাখতে পেরেছে সে।
আমাদের ছোট বোন , সে মা - বাবা কি বুঝেই নাই, সে মা'র আদর বলতে বুঝে এই বোনের কাছ থেকে পাওয়া আদরটুকু।
বড় বোন, বিয়ের পরেও রয়ে গিয়েছিল আমাদের সাথে ১০ বছর, আমাদের বড় না হওয়া পর্যন্ত। ছোট বোন কে বিয়ে দিয়ে নিজের সংসার গুছায়েছে পরে।
আজ যদিও মা দিবস, কিন্তু আমি মা কে নিয়ে লিখছি না, লিখছি আমার বোন কে নিয়ে।
যে না থাকলে, আজকের আমি আর আমি হতাম না।
(মা দিবস , ৮ই মে ২০১১ - তে লিখা। প্রথম প্রকাশ - www.amrabondhu.com ব্লগে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন