প্রিয়তমেষু
ভালো আছো জানি।
তবে সুখে আছো কিনা জানিনা। সেদিন চলার পথে এক ঝলকের জন্য তোমাকে দেখেছিলাম। কতদিন পরে দেখলাম ! যেদিন বিদায় নিয়ে চলে গেলে , তারপর ডুরে কাটা শাড়ী পরা হাজারো সুন্দরীর ভিড়ে তোমায় খুঁজেছি শুধু। অথচ সেদিন হঠাৎ করে দেখলাম তোমায়, রিক্সায় চেপে পাশের ঐ রাঁধাচুড়ার দিকে আনমনে তাকিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছ তুমি, তোমার চোখের নিচে গাঢ় কালির প্রলেপ পড়েছে। জিজ্ঞাস করতে ইচ্ছা হচ্ছিল, সুখে আছো তো? আসলে, মানুষ যে কিসে সুখী হয় আর কিসে হয়না, চুল পাঁক ধরলো , এখনও জানতে পারলামনা তা। তুমি সুখী হও, সেটা আগে যেমন চেয়েছি, এখনও চাইছি। তোমার সুখে থাকা, ভালো থাকার মাঝেই আমার বেঁচে থাকার সাথর্কতা।
তোমায় খুউব মনে পড়ছিল আজ, তাই তোমার না-জানা ঠিকানায় চিঠি লিখতে বসেছি। কোনদিনও তুমি এ চিঠি পাবেনা জানি, কোনদিনও জানতে পারবে না আমার মনের আকুতি, যেমন আগে ও কখনো জানতে পারনি কিংবা চাওনি। না, তোমায় দোষারোপ করছি না, সেটা আমার নিয়তি মেনেই কষ্ট গুলো কে সাগরের জলে ভাসিয়ে দিয়েছি। সে কষ্ট গুলো না ভেসে গিয়ে, প্রবালের সেথে আটকে দুলছে ঢেউ এর তালে তালে। আমি অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে দেখি সময়ের বেলাভুমিতে।
সকাল দশটা প্রায়, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে এখন। খুব জোরে না, ঝির ঝির করে পড়ছে। বহু প্রতিক্ষিত বৃষ্টি। কাল রাত থেকে শুরু হয়েছে, থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে, কখনো জোরে কখনও ঝির ঝির করে। বাসার সামনের ভাঙ্গা রাস্তায় জলে জমেছে, কাঁদা আর জুতার ঝগড়া চলছে প্রতিনিয়ত। তবু সবাই এই বৃষ্টি তে উদাস হয়, বরন করে ভালোবেসে। অনেক দিনের প্রতীক্ষার বৃষ্টি যে। এত দিনের প্রতীক্ষিত বৃষ্টি , অথচ দেখ স্বার্থপরের মত আমি মন খারাপ করেছি এই বৃষ্টি দেখে। ঘুম থেকে জেগেই কালো মেঘ দেখে তোমার কথা মনে পড়লো যে। তোমার চোখ দুটি যেন এই মেঘরঙ দিয়ে কাজল কালো করে সাজানো। পারিজাতের কেশরের মত পাপড়ি গুলা যেন ফুটে থাকে মেঘ রঙা সে চোখে। সেই মেঘ দেখে ভালো থাকি কি করে বল ?
দুপুরের দিকে দমকা বাতাস ছেড়েছিল কাল। আচ্ছা , এখনো কি তুমি এরকম বাতাসে তোমার চুলের খোঁপা টা খুলে চুল গুলো ছড়িয়ে দাও বাতাসে ? এখনো কি বাতাস ভেঁজা চুল গুলো তোমার কপোল ছুয়ে যায় ? তোমার সেই কপোল ছোয়া চুল গুলো ধরে কতদিন হল ঘ্রান নেই না !! দুই বছর ? তিন বছর ? হবে হয়তো।
কাজের ফাঁকে বৃষ্টি দেখছিলাম, শুভ্র ডানার মত বৃষ্টির সেই ঝাপটা এসে বাড়ি খাচ্ছিল আমার অফিসের কাঁচে, বৃষ্টির পানির ফোঁটা গুলো বেয়ে পড়ছিল কাঁচ বেয়ে, আমার অশ্রুধারা মত। সেদিন তুমি ঐ কাঁচের মতই স্থির, নিরব ছিলে। আনমনে কাঁচের ছায়ায় তোমার মুখ টা দেখার চেষ্টা করছিলাম।
আমার আবেগ আর স্বপ্ন গুলো, সেদিন নদীর পাড়ের মত ভেঙে পড়েছিল তোমার বুকে । তুমি পাড় ভাঙা নদীর মত তীব্র স্রোতে ছুটে গিয়েছিল সেই সুখের মোহনায়, আর আমি বিষন্নতার গভীরে তলিয়ে যেতে যেতে দেখেছি তোমার ছুটে চলা।
কাল রাতে আমার বারান্দার গ্রীলে জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা গুলো একটু একটু করে ঝরে পড়ছে, আর আমি নিঃসঙ্গতা কে পাশে নিয়ে শুয়ে শুয়ে দেখেছি। তুমি জানোনা, নিঃসঙ্গতাই এখন আমার নিত্যদিনের সঙ্গী।
আমার ঘরজুড়ে একাকিত্ব নেচে চলে স্মৃতির নুপুর পায়ে দিয়ে। বৃষ্টি ভেঁজা রাতের অন্ধকার উপহাস করে আমার ভালোবাসা কে। বিনিদ্র রাতে, রাতভর গল্প করি ফিসফিসিয়ে আসা বাতাসের সাথে, তারাদের সাথে। একসময় চাঁদ ও ক্লান্ত হয়ে ঘুমোতে যায় আর আমি আবার বের হই এই হেঁটে চলা মানুষের স্রোতে। আর তা নিয়েই আমি প্রতিদিন অবলীলায় বলে যাই - ভালো আছি।
প্রিয়া, তুমি ভালো থেকো।
হয়তো আমি না হয় ভেসে যাব স্রোতে, বরষার জুঁই ফুলের মত - এই ভালো থাকা মানুষের ভীড়ে।
বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি
আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।
মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।
লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন