মিতার চাকরি, তারপর বিয়ে, ভাড়াটিয়া তুলে দিয়ে নতুন করে জীবন আরম্ভ করলো মিতা, স্বামী - সায়েম ও ২ ভাই বোন - বাবু ও মুনিয়া কে নিয়ে। ওদিকে মিতার আত্মীয়দের কূটচাল তখনও বন্ধ হয়নাই। মিতার বিয়ের কিছুদিন পর তারা বাবুকে ডেকে নিয়ে গেল। "সায়েম, তোদের সম্পত্তির লোভে মিতা কে বিয়ে করেছে। মিতাও দেখবি সব সম্পত্তি নিয়ে তোদের কে আর দেখবে না" - তাদের সবার কথার সারাংশ সেই সাথে বাবুকে চাপ দিতে লাগলো মিতা কে যত দ্রুত আলাদা করে দেয়া যায়। বাবুর আরেকটা বেয়াদবি আসলে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য। যথারীতি বাবুকে যুদ্ধ করতে হল বোনের পক্ষ নিয়ে।
তখন সায়েমের বয়স ২৩, মিতার ২১। স্টুডেন্ট জীবন শেষ হয়নি সায়েমের।মাস্টার্স করছে তখন।উপার্জন বলতে টিউশনি। মিতার হাতে কিছু টাকা দেয় মাস গেলে। মিতাদের বিয়ের কিছুদিন পর সায়েমের বাবা মা আসে মিতাদের বাসায়, তিনি একটি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আর শ্বাশুড়ী গৃহীনি। মিতাকে আশীর্বাদ করে যায়, বাবু মুনিয়া কে ডেকে নিয়ে কাছে বসায়, আদরে সিক্ত করে তাদের কে। সেখানে বসে মিতার শ্বশুড় ঘোষনা দিয়ে যায়, "যত দিন মুনিয়ার বিয়ে না হবে, মিতা-সায়েম আলাদা সংসার করতে পারবে না। সায়েমকে এখানেই থাকতে হবে"। সেই সাথে তারা সায়েম কেও বলে যায় দুলাভাই না, বড় ভাই হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে। সেই সাথে সেদিন যাবার সময় মিতা, সায়েম আর মুনিয়া কে কয়েক দিনের সাথে নিয়ে যায় তাদের বাড়ীতে।
মিতার শ্বশুড় বাড়ী বেশী দুরে না। রিক্সায় গেলে ৫ টাকা রিক্সা ভাড়া। মিতা কয়েকদিনের জন্য বউ হয়ে যায় সেখানে। মিতার ৩ জন ভাসুর, ৩ জন দেবর, ২ জন ননদ। একটা ননদ আবার মুনিয়ার বয়সী। আরেক ননদ বড়, বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগে। শ্বশুড় বাড়ীতে গিয়ে মিতা পরিচিত হয় শ্বশুড় বাড়ীর সব আত্মীয়দের সাথে। তার শাশুড়ী খুবই ভালো একজন মানুষ। শ্বাশুড়ী সুলভ কোন ব্যাবহার নাই তার মধ্যে, বরং বলা যায় অনেকটা মা সুলভ আচরন ছিল তার। সকাল হলেই মুরগির ডিম সিদ্ধ করে পরে মিতা ও বড় বউ কে ডেকে পাঠায় খাবার জন্য। দুপুরে কিংবা রাতে খেতে বসলে মুরগির পা তুলে দেয় ছেলে বউয়ের পাতে। সংসারের সব কাজ করেন নিজের হাতেই, বউদের খেয়াল রাখে, কাজ করতে এলে মানা করে ছেলের বউদের, বলে যে, কয়দিন পর তো সংসারের কাজ করবাই, এখন রেস্ট নাও, মিতাকে বলে, সারা বছর তো বাড়িতে কাজ কর, এখানে বেড়াও। মিতা কি তাই বলে বসে থাকতে পারে ? রেস্ট নেয়াটা মিতার ডায়েরি তে নাই। মিতার শ্বশুড় সকালে উঠে চলে যান স্কুলে, ফিরেন সন্ধায়। সময় পেলে লুডু খেলেন, হেরে গেলে রাগে লুডুর কোট টা ছিড়ে ফেলেন। এইভাবে কয়েকদিন থাকলো মিতা শ্বশুড় বাড়ীতে। দেখলো ওখানের মানুষদের স্বভাব, শ্বশুড় বাড়ীর পরিবেশ। সাথে মুনিয়া। মুনিয়ার সাথে অবশ্য দুই দিনেই ভাব হয়ে যায় মিতার ছোট ননদ -মলির সাথে। একই ক্লাশে পড়ে দুইজনই। মুনিয়ার সময় টাও ভালো কাটলো মলির সাথে, মলির বন্ধুদের সাথে মিশে।
ওদিকে মিতার দেবর দের সাথে খুব সহজেই ভাব হয়ে যায় বাবুর।মিতার এক দেরব ছিল মিতার থেকে এক বছরের ছোট, আরেকটা দেবর বাবুর বয়সী। বাবুর দুইজনের সাথেই ভাব, বাবু দুইজনের সাথেই আলাদা আলাদা করে আড্ডা দিত।বেশী আড্ডা দিত বড়টার সাথে। মিতার শ্বশুড় বাড়ী যাওয়া উপলক্ষে এদিকে মিতাদের বাসায় শুরু হয় সাজ সাজ রব। কারন - ভিসিআর ভাড়া করে আনা হবে এবং সাথে থাকবে কিছু থ্রী এক্স ক্যাসেট এবং এর প্রধান উদ্যোক্তা মিতার বড় দেবর টি, সহ উদ্যোক্তা বাবু ও বাবুর কয়েক বন্ধু। সারারাত ধরে চলে ভিসিআর দেখা। শেষের দিকে টয়লেটে যাবার লম্বা লাইন !!!!
কয়েকদিন পরেই মিতা ফিরে আসে নিজের সংসারে। মিতার খাটুনি বেড়ে যায়, অফিস থেকে এসে সংসারের কাজ সাথে রান্না করতে হয় রাতের জন্য আর পরের দিনের জন্য। অবশয় তার কয়দিন পর একটা কাজের মানুষ ও পেয়ে যায় তারা। মিতার শ্বশুড় বাড়ীর আত্মীয় একের পর এক আসতে থাকে তাদের কে দেখতে। হাপিয়ে উঠে বাবু দোকানে দৌড়াতে দৌড়াতে। মুনিয়া হাপিয়ে উঠে নাস্তা গোছাতে গোছাতে। তখন মেহমান আসলে কমন মেনু ছিল - কেক আর কোক অথবা চা। মিতার চা আবার স্পেশাল ছিল। ঘন করে দুধ গুলিয়ে তার ভিতর চা পাতা দিয়ে জাল দিয়ে চা বানাতো মিতা। মায়ের কাছ থেকে শিখেছিল, কিন্তু অভাবের তাড়নায় আগে কখনও এরকম চা বানাতে পারে নাই। যাই হোক, যদি ভিআইপি গেস্ট আসতো, মানে চাচা শ্বশুড় কিংবা মামা শ্বশুড়, মিতা আগে থেকেই ঘরে কিছু বানায়ে রাখতো পরিবেশনের জন্য। কখনও কখনও রাতের খাবারও খেয়ে যেত তারা। শ্বশুড় বাড়ীতে ছড়িয়ে পড়ে মিতার সুনাম। রুপবতি হিসাবে আগেই সবাই পছন্দ করেছে, সেই সাথে রান্নার গুন। শ্বশুড় বাড়ীর ভালবাসায় সিক্ত হয় মিতা।
শ্বশুড় বাড়ীর ভালোবাসা শুধু সিক্ত করেনি মাঝে মাঝে কষ্টের মাঝেও ফেলে দিত মিতাকে। অফিস থেকে বাসায় ফিরতে না ফিরতেই দেখা যেত শ্বশুড় সাহেব এসে উপস্থিত।কোন কোন দিন শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী দুই জনই। তারা আসতেন ভালোবাসার টানে। তারা আসলেই ব্যাস্ত হয়ে পড়তো মিতা, মুনিয়া বাবু তিনজনই। যদিও মিতার শ্বশুড় সবসময়ই মানা করতো কোন কিছু করতে, ব্যাস্ত না হতে বলতেন তারপরও মিতা এটা সেটা করতো, চা বানিয়ে দিত। কোন কোন দিন রাত্রে খাবার খাইয়ে দিত। শ্বশুড়ের মাথা বানিয়ে দিত, শ্বশুড় তার জীবনের কাহীনি শুনাতেন, মিতা বাধ্য মেয়ের মত শুনতো। বাবু দৌড়াতো দোকানে, এটা সেটা কিনে আনতো নাস্তা দেবার জন্য এবং দেখা দিয়েই বাসার বাইরে ভো দৌড়। না হলে তাকেও মিতার মত বসে শুনতে হবে উনার জীবনের ঘটনা.........
বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি
আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।
মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।
লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন