মিতা পেটে আলসার বাধিয়ে এক সময় যায় ডাক্তার এর কাছে, ডাক্তার টি ছিলেন বাংলাদেশের নামকরা ডাক্তার দের একজন। তার ওখানে সব রোগির পুর্ব ইতিহাস লিখতে হয়, কিছু তথ্য দিতে হয়। মিতা ও আর সবার মতই কিছু তথ্য দিল, চেপে গেল তার অসহায় জীবনের কথা, বিধাতার উপর অভিমান করে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার কথা। ডাক্তার এর চেম্বারে গিয়ে অপেক্ষা , অতঃপর ডাক্তার এর সাথে সাক্ষাত। এখানে বিধাতা মনে হয় তার ভুল কিছুটা সংশোধনের চেস্টা করেছিলেন। ডাক্তার মিতাকে একের পর এক প্রশ্ন করতে লাগলো, করতে করতে এক সময় জনতে পারলো, মেয়েটির বাবা মা ২ জনই মারা গেছে।জীবন যুদ্ধে লড়াকু মেয়েটি অভিমান করে পেটে আলসার বাধিয়ে বসে আছে। ডাক্তার এর চোখ ভিজে উঠলো তখন। ভিজিট নিলেন না। মিতা কে বললেন, "আজ থেকে আমিই তোর বাবা।" মিতা একটা বাবা পেয়ে গেল, আর মিতার সেই ডাক্তার বাবা মিতা কে বিনা ভিজিটে চিকিৎসা করলেন দীর্ঘদিন। মিতা আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠতে লাগলো। ডিগ্রী পরীক্ষা দিল, পাস ও করলো মিতা।
ওদিকে মিতাদের আরেকটি টিনশেড বাড়ীতে ২ টা দোকান করা হল, দোকান ভাড়া দিল। মিতাদের আয় রোজগার কিছু টা বাড়লো। বাবুই সব দেখাশুনা করে, ভাড়া তোলে, বাজার করে, আর সেই সাথে চলে তার বিরামহীন আড্ডা। মুনিয়া ও স্কুলে আসা যাওয়া করে, নতুন ক্লাশে উঠে, ভাই বোনের আদর আর শাষনে কাটে তার জীবন।নিয়তি বুঝি আস্তে আস্তে প্রসন্ন হতে লাগলো তাদের।
মিতা ডিগ্রী পাস করার পর তার সেই ডাক্তার বাবার কছে গিয়ে বললো, বাবা, একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়া যায় !!!!! যেই কথা সেই কাজ।মেয়ের আব্দার তো রাখতেই হয়। মিতার সেই ডাক্তার বাবার অনেক প্রভাবশালী বন্ধু ছিল। তাদের কয়েকজনকে অনুরোধ করলেন মিতার জন্য । মিতা কে বললো সেই অনুযায়ী সাক্ষাৎ করতে।
মিতার বাবার কথা অনুযায়ী মিতা গেল রুপালী ব্যাংক এর চেয়ারম্যান এর সাথে দেখা করতে। সাথে ছিল বাবু। চেয়ারম্যান এর রুমে মিতা ঢুকলো , বাইরে বাবুর অপেক্ষা , বোনের জন্য। বেশক্ষন পর মিতা বের হোল , মুখ টা কালো করে। চাকরী টা সেখানে হয়ে যেত কিন্তু তার বিনিময়ে চেয়ারম্যানকে খুশী করতে হবে। সেদিন বাবু দেখেছিল মিতার অপমানিত তীব্র চোখের চাহনি , দেখল মিতার আত্ম প্রত্যয়।প্রচন্ড ঘৃনা নিয়ে চলে এল সেখান থেকে। মিতার সেই পাতানো ডাক্তার বাবাকে খুলে বললো ঘটনা। তারপর তার সেই বাবার কথা মত আবার মিতা গেল আই সি বি - তে। চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে।এখানেও সাথে বাবু। মিতা ঢুকলো চেয়ারম্যান এর রুমে। বের হয়ে এল কিছুটা ভালো মুডে। চাকরি হবে কিন্তু মাষ্টার রোলে। অস্থায়ী ভিত্তিতে। তখন তাই সই। মিতা জয়েন করলো আই সি বি তে। সরকারী প্রতিষ্ঠান, কিন্তু বেতন - দিন হিসাবে। আরেকটু ভালো হোল মিতাদের অবস্থা। মাসে মোট আসে ২৪০০/২৫০০, আসা যাওয়া অফিসের গাড়ীতে। সেখানে অল্পদিনেই মন জয় করে ফেলল অফিসের সবার, তার একনিষ্ঠ কাজ দিয়ে। তাই মনে হয়েছে , ঐ ডাক্তার এর কাছে যাওয়া টা ছিল বিধাতার ভুল সংশোধনের সামান্য চেস্টা।
ওদিকে মিতার বিয়ের জন্য তার আত্মীয়দের বিরামহীন চেস্টা কুরে কুরে খাচ্ছে মিতা কে। বাবুও অতিস্ঠ হয়ে উঠেছে বিয়ে সংক্রান্ত আত্যাচারে।
হঠাৎ জুন মাসের কোন এক বিকালে মিতা বাসায় আসে , সাথে নিয়ে আসে একজন কে , পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে - আজ থেকে এ তোদের দুলাভাই।এখানেই থাকবে ও। বাবুর মাথা ঘুরে উঠে, এরকম ভাবে বোনের বিয়ে !!! কি করবে , কি ভাবে বরন করবে , বাবু তো কিছুই বুঝছে না। মুনিয়া কান্না শুরু করে দেয়, ওর কষ্ট টা হোল, বোনের সাথে আর ঘুমোতে পারবেনা সেই কারনে। বাবুর দুলাভাই আর কেউ না, মিতার সেই ভালোবাসার লোক টি - লোকটির নাম সায়েম । বাবুর সব কিছু কেমন যেন উলোট পালট হয়ে যায় !!!!! আসলেই কি তাদের সাথে থাকবে ঐ লোকটা ? কেমন করে এ্যাডজাস্ট করবে তার সাথে ? কতদিন থাকবে , যদি দুলাভাই এর বাবা মা , বোন কে নিয়ে যেতে চায়, তো কি করবে ? সেটা কষ্টের যেমন, তেমনি আনন্দের। মিতাদের আত্মীয়রা সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়, কথা বলা বন্ধ করে দেয় , বাবু কে ডেকে বলে - "তোর বোন বলে ভাল ? ভাল মেয়েরা কেউ এভাবে কোর্ট ম্যারেজ করে ?" বাবুর ভিতর ভেঙে চুরে আসে। তার বোনকে কেউ খারাপ বললে সে সহ্য করতে পারেনা, এমন অবস্থায় সে কারো সাথে কোন নতুন কোন বেয়াদবি তে ও যেতে চায়না।
সেই রাতে তাদের এক প্রতিবেশী মিতা-সায়েমের বিয়ে উপলক্ষে বাসায় এসে নতুন বর বউ কে বরন করে, গামলা ভরে পোলাও, কোরমা, মাংস পাঠায় মিতাদের বাসায়। একটু হলেও বিয়ের আমেজ আসে বাসায়। সায়েমের বন্ধুরা আসে, সায়েমের ছোট ভাই রা আসে , মিতাদের বাসা গম গম করে লোকে।
সায়েমের সাথে মিতার বিয়ে হয়েছিল একটা শর্তে - বাবু , মুনিয়া বড় না হওয়া পর্যন্ত, মুনিয়ার বিয়ে না দেয়া পর্যন্ত সায়েম কে মিতাদের বাসায় থাকতে হবে।সবাই কে দেখাশুনা করতে হবে।সায়েম তখনও ছাত্র। মাস্টার্স করছে। ইনকাম বলতে - টিউশনি। ভালোবাসার টানে সেই অবস্থায়, সব শর্ত মেনে নিয়ে বিয়ে করে মিতা কে।
জীবনের বাঁক টা আবার ঘুরলো তিন ভাই বোনের।
বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি
আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।
মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।
লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন