বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি


আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।

মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।

লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।


বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০১০

জীবনের সাতকাহন ৩য় পর্ব

কষ্টে ই চলছিল মিতাদের জীবন। মিতা HSC পাশ করে এর মধ্যে, বি এ তে ভর্তি হয়। অপরদিকে বাবু স্কুলের গন্ডি ছড়িয়ে কলেজে উঠে।
মিতাদের এলাকার একজন তখন বুয়েটে পড়ত। সে নাম মাত্র সম্মানীতে মিতা, বাবু, আর মুনিয়া কে পড়াতো তখন। আর কোন টিচার এর কাছে পড়ার সুযোগ ছিল না অর্থাভাবে। এস এস সি পরিক্ষার আগে সেই টিচার ও চলে যায় বুএটের হলে। বাবু এস এস সি পাশ করেছিল ১ম শ্রেনীতে। শুধুমাত্র একটা কোচিং সেন্টারে পড়েছিল তখন। বাবু এস এস সি পাশ করে ভর্তি হয় ঢাকা কলেজে ।

ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে বাবু কে মুখোমুখি হতে হয় আরেক বাস্তবতার। তার ছিল না কোন ভাল পোশাক সেই সাথে তখন ধেই ধেই করে লম্বা হবার কারনে সব শার্ট প্যান্ট ছোট , খাট হয়ে গেছিল। মাত্র ১০ টাকা করে পেত প্রতিদিন - মিরপুর থেকে ঢাকা কলেজ আসা যাওয়ার খরচ সহ , তাও মাঝে মাঝে পেতনা বাবু। না পেলে সেদিন কলেজ যেতনা। আশে পাশে দেখে কত সচ্ছল পরিবারের ছেলে দের, কারো সাথে বাবুর সেরকম বন্ধুত্ব হয়ে উঠেনি, নিজের ভিতর কুকড়ে থাকতো সে। কারো কাছ থেকে ২।৩ দিন খেলে তাকেও তো খাওয়াতে হবে, সেই ভয়ে সে খাওয়ার দাওয়াত, আড্ডা এড়িয়ে চলতো। বাবু বাজার করে সেই ক্লাশ সিক্স থেকে। অথচ সবার মত বাজার থেকে টাকা মারা হয়ে উঠে নাই বাবুর। কি করে উঠবে !!! হয়তো দেখা যেত ১০০ টাকা দিয়ে বোন বলছে, যা, ৪ দিনের হিসাব করে বাজার করে আন । ১০০ টাকার ভিতরে ৪ দিন চলবে, বাজারে গিয়ে অসহায় হয়ে ঘুরে ঘুরে বাজার করে আনতো বাবু। HSC তে সবাই ৩/৪/৫ টা টিচারের কাছে পড়ে , আর বাবুর কোন টিচার নাই । পরে HSC সেকেন্ড ইয়ারে উঠে একটা টিউশনি পায়, সে টাকা দিয়ে বঙ্গবাজার থেকে কাপড় চোপড় কিনে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করেছে বাবু সেই সাথে অনেকটা সহজ হয় তার নিজের খরচের বিষয়টা। বাবু HSC তে কোন টিচারের কাছে পড়তে পারেনাই , টাকার অভাবে। শেষে, তাদের এলাকার ঐ বুয়েট এ পড়া বড় ভাই করুনা করেই বাবুকে পড়ানোর ভার তুলে নেয়। তখন বুয়েটে পড়া বর ভাই হলে চলে গেছে, বাবু প্রতিদিন মিরপুর থেকে পলাশী গিয়ে তার কাছ থেকে পড়ে আসতো। টাকা বাঁচানোর জন্য শাহবাগ এ বাস থেকে নেমে পলাশী পর্যন্ত হেটে যেত, আবার আসতো হেটে হেটে সেই সাথে ছিল তখন তার চরম অসুস্থ তা। সেই টিচারের কাচে পড়ে বাবু HSC পরীক্ষা দেয় অসুস্থ শরীর নিয়ে এবং পাশ করে ২য় বিভাগে। পরে ভাল কোথাও চান্স না পেয়ে ভর্তি হয় একটা ঢাকার একটা সাধারন কলেজে, বি কম এ।

অপর দিকে মিতা চিন্তা, ভাবনা, টেনশন, নিজের শরীর এর প্রতি বেখেয়ালী, নিয়তির উপর রাগ করে দিনের পর দিন না খেয়ে থেকে চরম অসুস্থ হয়ে পড়ে। ধরা পরে আলসার। এক আত্মীয়র সহযোগীতায় ঢাকার এক বড় ডাক্তার কে দেখায়।
মুনিয়া তখন স্কুলে পড়ে, বাবু তাকে স্কুলে পৌছে দিয়ে আসে, নিয়ে আসে। মুনিয়া কে বাবুই প্রথম দিন স্কুলে নিয়ে গেছিল, সবা বাচ্চার সাথে তার বাবা অথবা মা , আর মুনিয়ার সাথে তার ভাই - বাবা মা নেই তো আসবে কি করে। বাবুর দুঃখে বুক ভেঙ্গে আসছিল, অনেক কষ্টে কান্না ঠেকিয়ে রেখেছিল সেদিন। মুনিয়া ও আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল ভাই বোনের সংসারে।

বাবু কলেজে উঠার পর বাবু কে মুখোমুখি হতে হয় আরেক যুদ্ধের। এতদিন ছোট ছিল বলে মিতা তাকে সব কিছু থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিল, সংসারের সব ঝামেলা, আত্মীয়দের কুটচাল - সবকিছু থেকে। কলেজে উঠার পর দায়িত্ব বাড়তে থেকে বাবুর। বোনের সাথে সেও বুঝে নিতে থাকে সবকিছু। সেই সময় তাদের আশে পাশের আত্মীয় , যারা গার্জিয়ান হবার চেস্টা করে বিফল হয়েছিল, তারা মিতা কে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পরে লাগে । মিতা কে যে করে হোক বিয়ে দেবে। সেই সময় তাদের এলাকার এক লোক, তার রাতকানা - মাতাল ছেলের সাথে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, তাতেও সায় ছিল তার সেই আট্মীয়দের। প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ দেখতে আসে। কিন্তু কেন ? মিতার বিয়ে হয়ে গেলে , মিতা কে সরিয়ে দেয়া হবে গার্জিয়ানশীপ থেকে, মিতা চলে যাবে অপরের সংসারে, বাবু - মুনিয়া যেহেতু ছোট, তাই তাদের কে দেখাশোনার জন্য লোক লাগবে, সেই আত্মীয়রাই দেখা শোনা করবে, তাদের গার্জিয়ান হবে। যেন সিনেমার কাহীনি কেও হার মানায় তাদের কূটচাল।

মিতা কোন উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত বলে , বাবু যারে পছন্দ করবে তাকেই সে বিয়ে করবে। তখন পাত্রের ছবি এনে বাবু কে চারপাশ দিয়ে ঘিরে ধরে তার মামা, খালু রা বোঝাতে লাগতো পাত্রের গুনাগুন। কিন্তু কোন পাত্র কেই পছন্দ করে না বাবু। কেনই বা পছন্দ করবে, যে বোন বাবা মা মারা যাবার পর তাদের কে মায়ের মত ভালবাসা দিয়ে আগলে ধরে রেখেছে, তার অসম্মতি তে তো বিয়ে দেয়া বাবু সমর্থন করতে পারে না, আবার বাবু জানতো যে তার বোনের সাথে একজনের ভালবাসার সম্পর্ক আছে।

বাবু তখন থেকেই শক্ত ভাষায় , কড়া সুরে আত্মীয়দের সাথে যুদ্ধ করতে শিখে গিয়েছিল। বাবু হয়ে যায় সবার কাছে - বেয়াদব।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন