বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি


আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।

মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।

লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।


বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০১০

জীবনের সাতকাহন ৬ষ্ঠ পর্ব

মিতার সংসার চলতে লাগলো, স্বামী, ভাই বোন নিয়ে। মিতা চাকরী করে, অফিস থেকে এসে রান্না করা, সংসারের সব কাজ দেখাশুনা করা সব কিছুই তাকে সামলাতে হয়। আস্তে আস্তে জীবনটা গোছানোর চিন্তা করে।

মুনিয়াও পড়াশোনা চালায় যেতে থাকে তবে বরাবর পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ রেজাল্ট করতে থাকে। ঠিক মত পড়ে না, খায় না। বকা ঝকা করলে বলে , পড়তে ইচ্ছা করে না। ভাই বোন হাল ছেড়ে দেয়, তবুও চেষ্টা চালায় যেতে থাকে মুনিয়ার জন্য। ওদিকে বাবু বি. কম এ ভর্তি হয়। বেসরকারী কলেজে ভর্তি হয় বাবু। মিতার জমানো কিছু টাকা দিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয়।

তাদের জীবনে কিছুটা স্বচ্ছলতা আসলেও তা পর্যাপ্ত পরিমানে ছিল না। খুব হিসাব করে সংসার চালায় মিতা। রাতে মাছ দিয়ে ভাত আর দুপুরে ভর্তা দিয়ে কোনরকমে চালায়ে নিত। কখনও কখনও এরকম হিসাবের কারনে মেহমান আসলে দেখা যেত মিতা তাকে ঠিকই মাছ তরকারী দিয়ে হয়তো পরিবেশন করছে কিন্তু তখন মিতা নিজে কোনরকম তরকারি বা ডাল দিয়ে তরকারি খেয়ে নিত। আর তখনই বাধতো বিপত্তি। মিতা কে ছাড়া তার ভাই বোন মাছ বা মাংস খাবেনা, বাবু বা মুনিয়া তখন তাদের পাতের মাছ বা মাংসের টুকরা মিতা কে দেবার চেষ্টা করত, মিতা ও নিবে না তাদের কাছ থেকে। বেশ কিছুক্ষন ধরে মাছ বা মাংসের টুকরা চালাচালি হত , শেষ পর্যন্ত ২ টুকরা মাছ তিন জন ভাগ করে খেত, কখনও মিতা কিছুতেই খেতে চেতনা। এই ভাবে মাঝে মাঝে ঝগড়া করতে করতেই শেষ হত তাদের আহার পর্ব।

মিতাদের সংসার কোনরকম চললেও তাদের বাড়ীর অবস্থা করুন হতে থাকে দিন দিন। সঠিক সময়ে রিপেয়ারিং না হওয়াতে বাসার বিভিন্ন স্থানে পলেস্তার খসে খসে পড়তো, টিন গুলো নষ্ট হয়ে যাওয়াতে টিন ফুটো হয়ে পানি পড়তো কিংবা স্ক্রুর গোড়া দিয়ে পানি পড়তো, বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। তার ভিতরে জোড়া তালি দিয়ে চলে যেত তাদের জীবন।

বাবু ও দিকে তার এক মামার অফিসে যোগাযোগ করে, বিনা পয়সায় কম্পিউটার শিখে। সপ্তাহে তিন দিন। সেখানে বাবু ওয়ার্ড পারফেক্ট, লোটাস, ডিবেজ শিখতে থাকে। টিচারের কাছে ব্যাচে পড়তে যায় সাথে আড্ডাও চলে তার।

মিতার স্বামী - সায়েম কে কাছে পেয়ে মিতা যেন আরও কিছু টা হাপ ছেড়ে বাঁচে। মাঝে মাঝে বিল বাকী থাকলে লাইন কেটে দেওয়া হতো, তখন সায়েম সাহেব ই দৌড়াদৌড়ি করে সেগুলো ঠিক করতো, বাড়ীর ঝামেলা গুলো নিয়ে ব্যাস্ত থাকতো, সমাধান করতো যে কোন সমস্যার। তবে সায়েমের একটা নেশা ছিল - প্রচন্ড তাস খেলার নেশা। জুয়া না, টুয়েন্টি নাইন। প্রায়ই বাসায় বন্ধুদের নিয়ে কার্ড খেলার আসর বসতো। বাবু দেখে মেজাজ খারাপ করতো , কারন মুনিয়া বড় হচ্ছে, মিতা কে বলতো মাঝে মাঝে কিন্তু কোন সমাধান হতো না। এ নিয়ে মাঝে মাঝে মিতা আর সায়েমের কথা কাটাকাটি ও চলতো। এক সময় সবাই মেনে নেয় তার এই নেশা ।
এরই মাঝে বাবুর বি. কম পরীক্ষা ঘনায়ে আসে। বেতন, ফরম ফিলাম ফি সব দিয়ে প্রায় ৬ হাজার টাকা। কোন টাকা জমানো নেই তখন তাদের। কি করে ফরম ফিলাপ করবে ? টাকার অভাবে কি বাবুর পরীক্ষা দেয়া হবে না ? চোখে শর্ষে ফুল দেখার মত অবস্থা। কোন ভাবেই টাকা জোগাড় করতে পারে না বাবু। শেষ পর্যন্ত ছুটে যায় চট্টগ্রামে, তার এক চাচার কাছে, আগেই চিঠি লিখে জানিয়ে দেয় সমস্যার কথা। তার চাচা বাংলাদেশ নৌ বাহীনি তে কর্মরত। তার অবস্থা ও যে খুব ভালো , তা না। তবুও সাহায্যের আশায় বাবু ছুটে যায় সেখানে।

তার চাচা তাকে নিরাশ করেনা। ৩ দিন থেকে বাবু চাচার কাছ থেকে টাকা এনে বি. কম এর ফরম ফিলাপ করে। বাবুর প্রস্তুতি চলতে থাকে পরিক্ষার জন্য। এরই মাঝে একটা সুখবর আনন্দের বন্যা বইয়ে দেয় পরিবারটি তে। বাবু মামা হবে। আনন্দে ভাসতে থাকে পরিবার টি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন