বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি


আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।

মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।

লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।


রবিবার, ২ মে, ২০১০

বিষন্ন আনন্দ

তারা ভরা কৃষ্ণ পক্ষের রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেক ক্ষন ধরে দেখছিল সজল। হাজার তারার মেলা বসেছে আকাশে। কোন টা উজ্জ্বল কোনটা আবার মিট মিট করে জ্বলছে। তারা গুলো কে এক করে রেখা টানলে নাকি প্রশ্ন বোধক চিহ্ন হয় , আরো অনেক কিছু নাকি আঁকা যায় । কালপুরুষ, সপ্তর্ষি মন্ডল আর ও কি কি শুনেছিল ছোট বেলায়।

নদীর পাড়ে কৃষ্ণ পক্ষের রাতে শুয়ে সেটাই দেখছিল সজল আর তারা গুলো নিয়ে আঁকা আঁকির চেষ্টা করছিল অনেকক্ষন ধরে। যে কোনদিন তারা খেয়াল করে দেখেনি, সে কি পারবে তারা নিয়ে খেলতে ? তবু শেষ বারের মত আপন মনে খেলে যাচ্ছিল সজল।

অনেকক্ষন ধরেই শুয়ে আছে সজল, হেমন্তের কোন এক বিকালে নিজের গাড়ীটা টেনে এনেছে নদীর পাড়ে। এটা কী নদী ? নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন করে, নিজেই উত্তর দেয়। নাম জানে না সে। যে নদীই হোক , সজলের তাতে কিছু যায় আসে না। নদী দেখতে আসেনি সে, চেয়েছে নিরিবিলি একটু জায়গা।

নদীর পাড়ে এসে সজলের মনটা ভরে উঠে বিষন্ন আনন্দে। এক পাশে ছনের বন। ছনের পাতায় বাতাসের দোলা লেগে এক সুন্দর সুর বেঁজে উঠছে , বিটোফনের সিম্ফনি থেকেও সুমধুর যেন সে সুর, সজল চোখ বুঁজে উপলব্ধি করার চেষ্টা করলো। নদীরে ঢেউ থেকে শিখে নিয়ে সেরকম দোলায় দুলছে ছনের বন। আরেক পাশে , বেশ দূরে একটা বটগাছের মত। সামনে নদীর ঘোলা পানি। ছন গাছের বনের এ পাশ টা একটু খোলা, নিচে ঘাষের দল যেন জড়াজড়ি করে হিংসা করছে তাবত পৃথিবী কে। সেখানেই সজল শরীর টা এলিয়ে দেয়।

নদীরে ওপারে রেখার মত পাড়। মাঝে নৌকা চলছে ভট ভট শব্দ করে। নদীর জলের সাথে ওদের যেন চির শত্রুতা। জলকে দুই ভাগে চিরে তার ভিতর দিয়ে যান্ত্রিক নৌকা গুলো চলছে আর জলগুলো প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে জাচ্ছে দিখন্ডিত না হয়ে একই ছন্দে নৃত্য করবে বলে।

সজলের মাথার পিছে পশ্চিম আকাশ, সিঁদুরে রঙ থেকে একসময় নিকষ অন্ধকারে ছেয়ে যায়, সেই আকাশ কে আলোকিত করতে জ্বলে উঠে হাজারো তারা।

দূরে একটা বটগাছের নিচে কিছু লোকের জটলা ছিল, আঁধার নামতেই তারা এক এক করে বিদায় নেয়। সিগারেট আর বিড়ির ধোয়ার সাথে আড্ডা দিয়ে তারা খুঁজে ফিরছিল নিছক বিনোদনের উপলক্ষ্য। রাত নামতেই বিদায় নেয় তারা। আর সন্ধ্যা নামতেই সে গাছে ফিরে আসে নানান পাখি, কিচির মিচির শব্দে তাদের উপস্থিতি জানিয়ে ।

সজল ঘুরে ঘুরে দেখছিল , প্রকৃতির প্রতিদিনের এই নিয়ম। রাতের অন্ধকারে, ঘাসের উপর শুয়ে সজল তার ডান হাত দিয়ে প্যান্টের পকেট থেকে রিভলবার টা বের করে। আসার আগে ৩ টা গুলি ভরে নিয়ে এসেছে।

একটা মানুষের মৃত্যুর জন্য কয়টা গুলির প্রয়োজন ???

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন