এক.
দিবাস্বপ্নের মতই ছিল স্বপ্ন গুলো, আশা ছিলনা , ছিলনা কোন লক্ষ্য। কেউ যদি প্রশ্ন করে ছোটবেলায় তুমি কি হতে চেয়েছিলে? সমস্যায় পড়ে যাই। কোন কিছুই তো হতে চাইনি তখন। শুধু বড় হতে চেয়েছিলাম, আর কিছু না।
বড় হতে হতে ,চলতে চলতে এই চলার পথে কত জনের সাথে পরিচয় হলো। পরিচয় হলো ছাত্র জীবনে , পরিচয় হলো কর্ম জীবনে। সেই সাথে পরিচয় হলো ভার্চুয়াল জীবনে - সে চ্যাটিং, ব্লগিং কিংবা অন্যকোন ভাবেই হোক।
বড় হতে হতে , জীবনের মানে বুঝতে বুঝতে নিজের শখ , ছোট ছোট ইচ্ছা জলাঞ্জলী দিয়ে শুধু এগিয়েই চলেছি । বড় কঠিন বড় ভয়ঙ্কর সে সে পথ চলা । এ পথে চলতে গেলে নিজেকে নিয়ে ভাবা ছাড়া আর কোন পথ ছিলনা , সেটা সম্ভবও না।
বাস্তবতা বড়ই রুঢ়, বড়ই স্বার্থপর - নিজেকে নিয়েই ভাবতে শেখায় , সেখানে বিলাসিতা করার সময় কোথায় ? কোন বিলাসিতার স্থান নেই সেখানে , হোক সে কষ্ট বিলাসিতা কিংবা ভাব বিলাসিতা ।
চলতে পথে বাসে কিংবা গাড়ীতে - অফিসে আসা যাওয়ার পথেই চোখ পড়ে রাস্তার মোড়ে, সিগন্যালে ফুল কিংবা মালা কিংবা গাড়ীর গ্লাস পরিষ্কার করা ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের । কখনও কখনও ফিরে তাকাই হয়তো, কয়েকটা টাকার বিনিময়ে কিনে নেই ফুল, ভাবি বিরাট কোন কাজ করে ফেললাম। নিজেকে বিরাট মনের কেউ ভাবি আর আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলি ।
আমার জীবন কাব্যের পান্ডুলিপিতে তাদের কোন স্থান নেই , নেই তাদের করুণ মুখের ছবি আমার ছবির ক্যানভাসে। কেননা বাস্তবতা আমাকে দুঃখ বিলাসি হতে শিখায়নি, আমাকে ভাব বিলাসি হতে শিখায়নি। তাই তাদের কষ্ট নিয়ে আমি ভাবাপ্লুত হতে পারিনা। আয়েশ করে খাটের উপর শুয়ে, তাদের কষ্ট গাঁথা নিয়ে দু ছত্র লিখিনা। মনে হয় তাদের কষ্ট নিয়ে উপহাস করছি আমি। তাদের কষ্ট , দুঃখ নিয়ে লিখে সস্তা বাহ্বা , সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার কোন অধিকার আমার নাই, নাই কোন তাদের কে নিয়ে ভাব বিলাসিতা করার। আমাকেই অর্জন করতে হয়েছে আমার এই স্থান লড়াই করে , বার বার হারতে হারতে। আর তাই লড়াই করা মানুষদের মুখ আমার মাঝে কোন ভাবনা আনেনা , বিচলিত হইনা তাদের কষ্ট গাঁথা দেখে।
কেননা আমার জগৎ জুড়ে শুধু আমিই, এই "আমি" কেই টেনে নিয়ে বেড়াতে হবে জীবন ভর, এমনকি জীবনের পরেও - আমার দেহহীন আত্মার বিচরনে, পরলৌকিক সব আনুষ্ঠানিকতায়। সেখানে অন্যকে নিয়ে ভাববার সময় কই এই কঠিন সময়ে ?
দুই.
ছোটবেলার বন্ধুদের কে অনেকেই হারিয়ে ফেলে, নতুন করে বন্ধুত্ব হয় নতুন নতুন বন্ধু আসে কিন্তু এদিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান যে ছোটবেলার বন্ধুদের কে হারাইনি। তারা ছিল, এখনও আছে , সাথে যোগ হয়েছে ভার্চুয়াল জীবনের বন্ধু। চ্যাটিং এর কল্যাণে কিংবা ব্লগিং এর কল্যাণে পরিচিত তারপর একসময় বন্ধুত্ব - গাঢ় হয়েছে ফেসবুকে আড্ডা দিয়ে, ব্লগে আড্ডা দিয়ে। তারপর ভার্চুয়াল জগতে আর থাকেনি, বাস্তব জীবনে বন্ধু হয়ে গিয়েছি অনেকের।
তারপরেও কত বন্ধু হারিয়ে গেছে, একসাথে স্কুলে, কলেজে পড়েছি , কত কাছের বন্ধু ছিল তখন , এখন তাদের কোন খবর জানিইনা । হয়তো তাদের সাথে সেরকম আত্মার টান সৃষ্টি হয়নি যে টানে বন্ধুত্বের খাতিরে ছুটে যাবো কিংবা তারা ছুটে আসবে । চলার পথে কখনো দেখা হলে - হাসি মুখে কুশল বিনিময় হয় , কিছুটা নস্টালজিক হয়ে পড়ি, বর্তমান অবস্থানে কে কেমন আছি মনে মনে মাপার চেষ্টা করি। তারপর বিদায় , ভুলে যাই তার কথা।
নেশার মত জড়িয়েছে যখন ব্লগ , তখন ব্লগিং প্লাটফর্ম গুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছি । দেখেছি , পড়েছি নানান মানুষের লেখা। কারো কারো লেখা মনের ভিতর দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গিয়েছে, কারো কারো লেখা শিহরিত করে দিয়ে গিয়েছে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সব গুলো রোমকূপ। কারো লেখায় একদলা থু থু উঠে এসেছে ঘৃনায় কিংবা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে খেতে হা হা প গে - শিখেছি।
ব্লগিঙের সুবাদে হয়েছে বন্ধুত্ব , কেউ কেউ হয়েছে বন্ধু । যদিও বন্ধুত্ব হবে কি না , বন্ধু হয় কি না - না জেনেই ব্লগিং জগতে এসেছি, জানতাম না আসলে বন্ধুত্ব হয় কি না। একটা নেশার মতই জড়িয়ে গিয়েছি ব্লগের সাথে, বন্ধুত্ব হয়েছে, সেখান থেকে কেউ কেউ হয়েছে বন্ধু।
ব্লগিং প্লাটফর্ম পাল্টালে কেউ কেউ রয়ে গেছে বন্ধু হিসাবে কেউ কেউ বন্ধুত্বের খাতা থেকে নাম কেটে দিয়েছে , নতুন নতুন বন্ধু যোগ হয়েছে আবার। প্লাটফর্ম পাল্টালে যাদের বন্ধুত্ব পালটে যায়, বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যায়, তারা আসলে বন্ধুই ছিলনা কোনদিন , তাই কষ্টও নাই।
শুধু কষ্ট হয় তারাই যখন বন্ধুত্বের দাবী নিয়ে আবার হয়তো কিছু বলে , আর অন্যকে সমালোচনার পথ খুলে দেয় আমার অবর্তমানে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন