বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি


আমার নিজস্ব ব্লগে স্বাগতম । এটা শুধু আমার ব্লগ না , বরং আমি আমার সব প্রিয় জিনিস গুলোকে একত্রে বেঁধেছি এখানে। তাই এটা শুধু ব্লগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি , হয়ে উঠেছে আমার ও আরো কয়েকটি অনলাইনের লিঙ্কগুলোর মিলন মেলা ।

মুলতঃ আমারব্লগে ও সামহ্যোয়ারইনব্লগে লিখেই শুরু তারপর আমার ব্লগে বড় একটা সময় কাটিয়েছি হাবিজাবি লিখে লিখে। সেখান থেকেই কিছু কিছু লেখা, আমরাবন্ধু তে লেখা কিছু লেখা এখানে সন্নিবেশিত করেছি।

লেখা লেখির জন্য যে মেধা দরকার, সেটা আমার নাই, তাই অকপটে স্বীকার করতেও সমস্যা নাই আমার। এই মেধাহীন লেখাগুলোকেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অপপ্রয়াস মাত্র।


বুধবার, ৪ এপ্রিল, ২০১২

ডিজিটাল মুঘলে আযম

প্রথম দৃশ্যঃ 
সিংহাসনে বসা সম্রাট আকবর।
সম্রাট আকবরঃ উৎফুল্ল চিত্তে ........ - বাংলা বিহার উড়িষ্যার মহান অধিপতি
বীরবলঃ খুক খুক (কাশি) 
আকবরঃ খামোশ !!! সম্রাটের ভাষনের মধ্যে তুমি কাশি দাও । এত বড় সাহস !!!
বীরবলঃ হুজুর আপনি ভুল করে ঐ সিরাজ বেক্কলের ডায়লগ দিয়া দিছিলেন তাই মনে করায়ে দিতেই .......
আকবরঃ ওহ। sorry. ..  তো যা বলছিলাম , আজ আমাদের শাহজাদা সেলিম ১৪ বছর পর আম্রিকা থেকে দেশে ফিরছে। আমি খুব খোশ মেজাজে । তাকে অভ্যর্থনার জন্য কি বন্দবোস্ত করিলে , বীরবল?
বীরবলঃ জ্বী আজ্ঞে জনাব , আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। বিমানবন্দরে আমরা লাখো মানুষ জমায়েত করে শো ডাউন করবো। ১০০ খানা পাজেরো ঘোড়া আর ৫০ খানা লিমুজিন হাতি থাকবে বহরে। উপস্থিত সকলে ব্যানার , ফেস্টুন নিয়া রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে শাহজাদা কে স্বাগত জানাবে। বিমানবন্দর থেকে রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত দুপাশে মানুষ থাকবে তাঁকে স্বাগত জানাতে , মহামান্য সম্রাট।
আকবরঃ হুম।
আকবরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়িল। এত লোক ভাড়া করা মানেই টাকা পয়সার ব্যাপার। সবাইকে ৩০০ টাকা সাথে এক প্যাকেট বিরানী দেয়া লাগিবে । এদের নিয়ে আর পারা গেল না। দিন দিন demand বেড়েই চলছে !!!

দ্বিতীয় দৃশ্যঃ
শাহজাদা সেলিম অভ্যর্থনা শেষ করে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করিলেন। তাহার মাতা রাজপুত আর যোধা বাঈ কে সালাম করিয়া নিজ কক্ষে প্রবেশ করিলেন। দীর্ঘ ভ্রমন তারপর আবার বিশাল অভ্যর্থনার ধকলে শাহজাদা সেলিমের শরীর কাহিল হইয়া গিয়াছে। বিছানায় গা এলিয়ে দেয়া মাত্রই নিদ্রায় অচেতন হইয়া গেলেন শাহজাদা।

দীর্ঘ নিদ্রা শেষ করিয়া শাহজাদা বেশ উৎফুল্ল। মন মেজাজও ভালো । আহারাদি সম্পন্ন করিয়া নিজ কক্ষে প্রবেশ করিয়া সুইস ব্যাংকের একাউন্ট নিয়া হিসাব কষিতে বসিলেন। তাহার হাত খরচ বাবদ প্রতি মাসে যে অর্থ পাঠানো হইতো তাহা হইতে কিছু কিছু করিয়া শাহজাদা সুইস ব্যাংকে জমা করিতেন। কিছু অংশ মালয়েশিয়াতে বিনিয়োগ করিবেন বলিয়াও ভাবিয়া রাখিয়াছেন। এতদিন পর দেশে আসিয়াছে, শুধু বাপের অর্থের উপর ভরসা না করিয়া নিজেই টু পাইস কামানোর চিন্তা করিতে লাগিলেন। কোন এক মোবাইল অপারেটর কোম্পানি তাহার সহিত সাক্ষাত করিতে চাহিয়াছিল, তাহাদের সহিত কথা বলিবেন বলিয়া মনস্থির করিলেন। টু পাইস এর ধান্ধা না করিলেই নয় - নিজেই নিজেই কহিলেন তিনি।

তৃতীয় দৃশ্যঃ
শাহজাদা সেলিম বৈদেশ থাকিয়া তাহাদের আচার আচরন কিছু এরই মধ্যে রপ্ত করিয়াছেন। কথায় কথায় thank you , sorry বলা ছাড়াও DJ party তে যাইবার অভ্যাস হইয়াছে, সাথে শুরা-সাকী তে অভ্যস্ত হইয়া উঠিয়াছেন।

রাত হইতেই শাহজাদা ডিস্কোতে যাইবেন বলিয়া মনস্থির করিলেন। খুঁজিয়া খুঁজিয়া একটি পাঁচ তারকা হোটেলের DJ party তে তিনি গমন করিলেন।

সেখানে সমাজের আরো অনেক বিখ্যাত জ্ঞানী গুনি লোক, রাজনৈতিক ব্যাক্তি সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আধো আধো আলোয় সকলেই সুরের তালে তালে শরীর দুলাইতাছে। সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চঃস্বরে গান বাজিতেছে। সে গানের কথা যাহাই হউক না , তাহাতে কাহারো কিছু যায় আসে না । একজন ভদ্রমহিলা গাইছেন, যার বাংলা করিলে দাঁড়ায় - "আমার পাছা মিথ্যা বলে না" - এই ধরনের। কিন্তু তাহার গানের কথার দিকে কাহারোই খেয়াল নাই, সকলেই সুরে সুরে শরীরের কসরত করিতেছে। ইহাকেই DJ পার্টি বলিয়া থাকে।

শাহজাদার প্রবেশের সাথে সাথে সকলেই কূর্নিশ করিয়া পথ ছাড়িয়া দিল। নাচ- গান কিছু ক্ষনের জন্য বন্ধ হইয়া গেল।

শাহজাদা সেলিমঃ Yo man !!! Cheers . বন্ধ করলেন কেন? 
শাহজাদার কথা শুনিবা মাত্রই সকলে হর্ষধ্বনি করিয়া আবার নাচিতে লাগিল। শাহজাদা ড্যান্স ফ্লোরে পদ যুগল রাখিবা মাত্রই অপরুপ সুন্দরী এক নারী আসিয়া বলিল - Lets dance. 
আধো আলোয় শাহজাদা তাহার রুপ বুঝিতে পারিলেন না। শুধু তাহার শরীর হইতে, চুল হইতে যে ঘ্রান আসিতে লাগিলো তাহাতেই তিনি বিমোহিত হইয়া গেলেন। এক সময় দুজনেই সমান তালে ছন্দে ছন্দে নাচিতে লাগিলো।
অধিক রাত হইলে পরে তাহাদের নাচ থামিলো। ঘরের আলো ফুটিয়া উঠিলো। সেই আলোয় শাহজাদা দেখিলেন - তাহার সহিত নাচিয়াছিল এক অপরুপা সুন্দরী। তাহার হাসিতে যেন ঝর্নার শব্দ। চোখের পাতায় যেন চাতক পাখির ন্যায় আকাঙ্খা। সদ্য প্রস্ফুটিত কমলের পাপড়ির ন্যায় ঠোট দুখানা যেন ভ্রমরের অপেক্ষায়। দেখিবা মাত্রই শাহজাদা তাহার প্রেমে পড়িয়া গেল। নাম জিজ্ঞাস করিতেই সুন্দরী বলিল - আনারকলি।

চতুর্থ দৃশ্যঃ

রাজদরবারে আপন কক্ষে ফিরিয়াই শাহজাদা facebook এ স্ট্যাটাস দিয়া জানাইয়া দিলো - আনারকলিকে তাহার চাইই চাই।
সকাল ১২ টায় ঘুম হইতে উঠিয়া দেখিলেন যে সেই স্ট্যাটাসে ৬০০ খানা লাইক আর ২৭০ খানা কমেন্ট পড়িয়াছে। খুশী মন নিয়া শাহজাদা দিন আরম্ভ করিলেন।

বিকাল হইতেই শাহজাদা আনারকলির ঠিকানা ও পূর্ন পরিচয় ও মোবাইল নম্বর পাইয়া গেলেন বন্ধু মারফত। তাহার সেই বন্ধু র‍্যাব গোয়েন্দা কে কাজে লাগাইয়া তাহার বৃত্তান্ত বাহির করিয়া শাহজাদা কে দিয়া গিয়াছে।

শাহজাদা জানিলো যে - আনারকলির মাতা সরকারী বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা। রাজপ্রাসাদেই তাহার কর্মস্থল। এই প্রভাব খাটাইয়া তিনি বিস্তর টাকা পয়সা ইতমধ্যেই আয় করিয়াছেন। সরকারী কর্মকর্তা হইয়াও তাই তাহার একমাত্র কন্যা আনারকলিকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাইয়াছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদয় খরচ তিনি মিটাইতেছেন।

ওদিকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইতেই আনারকলি তাহার বন্ধুদের সহিত মিশিয়া , অঢেল টাকা পয়সা ও মাতার নিকট হইতে আহ্লাদ পাইয়া আনুন্দ ফূর্তিতে দিন কাটাইতেছে। সম্প্রতি সে ইয়াবাও নাকি ধরিয়াছে বলে দুষ্টুলোকেরা বলাবলি করিতেছে।
সেদিন সন্ধ্যায় শাহজাদা সেলিম আনারকলির মোবাইলে ফোন করিলেন -

পঞ্চম দৃশ্যঃ

শহাজাদা সেলিম অতি অল্প সময়েই আনারকলির সহিত ফোনালাপে মত্ত হইয়া পড়িল। আনারকলির সহিত আলাপের জন্য সেলিম তাহার ফোনের "বন্ধু" প্যাকেজ খানা পাল্টাইয়া "প্রিয়" প্যাকেজ রুপান্তর করিল। ইহাতে কোনরূপ ঝামেলা ছাড়াই ৬০ মিনিট মাত্র ৫ টাকায় কথা বলিতে পারে।

সেই রাতেই সেলিম আনারকলি কে তাহার facebook এর ফ্রেন্ডলিস্ট যোগ করিয়া লইলো।

অতঃপর আনারকলির নানান এলবাম খুলিয়া খুলিয়া শাহজাদা দেখিতে লাগিলো। স্বল্প বসনা pic গুলির দিকে সেলিম তাকাইয়া তাকাইয়া lol ফেলিতে, থুক্কু লিখিতে লাগিলো কমেন্টে।

রাত্রি গভীর হইলে আনারকলি facebook chat এ online হইলো। তাহাকে অনলাইনে দেখিয়া শাহজাদা আনন্দে আত্মহারা হইয়া উঠিলেন। তারপর ভোর ৫ টা অব্দি তাহার চ্যাট করিতে লাগিলো। কিন্তু আনারকলির পরদিন ক্লাশ, তাই সে চ্যাট দ্রুত শেষ করিয়া ৫ টায় ঘুমাইতে গেলো সেদিন।

ষষ্ঠ দৃশ্যঃ

সম্রাট আকবর চিন্তিত মনে সিংহাসনে উপবিষ্ট। তাহার মন্ত্রীপরিষদ , কর্মকর্তা সকলেই মুখভার করিয়া বসিয়া আছে। রাজা ডি জি এফ আই মারফত খবর পাইয়াছেন, তাহার একমাত্র পুত্র সেলিম , কোন এক নর্তকীর প্রেমে পড়িয়াছে। উহারা নাকি উথাল-পাথাল প্রেমে হাবুডুবু খাইতে খাইতে বুড়িগঙ্গায় বাতাস খাইতেছে, রমনা পার্কে বাদাম চিবুইতেছে, ফ্যান্টাসি কিংডমে যাইয়া রোলার কোষ্টারে ঘুরিতেছে। বৃষ্টিতে উহারা সাদা শার্ট-প্যান্ট আর শাদা শাড়ী পড়িয়া তাকধুম তাকধুম নৃত্য করিতেছে। উহাদের প্রেম নিবৃত্ত না করিলে দেশ রসাতলে যাইবে।

সম্রাট আকবর বীরবল সহ তাহার বিশ্বস্ত লোকদের নিয়া গোপন শলাপরামর্শ করিতে লাগিলেন। পরামর্শ শেষে সম্রাটের গোঁফের কোনায় খুশীর ঝিলিক ঝিল মিল করিয়া উঠিল।

সেলিম সেদিনকার মতন ডেটিং শেষ করিয়া তাহার কক্ষে প্রবেশ মাত্রই ভৃত্য আসিয়া কহিল-
সম্রাট সালাম জানাইয়াছেন।
সেলিমের ভ্রূ কুঞ্চিত হইলো, অক্ষিগোলক ক্ষুদ্র হইলো, ওষ্ঠ্য খানি বাঁকাইয়া কহিল -
"তথাস্তু" ।

সেলিম নিজেও ভাবিতেছিল তাহাকে সম্রাট যে কোন সময়ে ডাকিতে পারে । তাহাদের প্রেম কাহিনী নিয়া পত্রিকা যে পরিমান কাহিনীর জন্ম দিতাছে , পাপারাজ্জিরা যে পরিমান পিছে লাগিয়া রহিয়াছে, তাহাতে সম্রাটে কর্ণগোচর না হইবার কথা না । কিন্তু সেলিম জানিতো না যে সম্রাট নিজে পত্রিকা পড়ে না, তাহার সেক্রেটারী পত্রিকা হইতে বাছিয়া বাছিয়া শুধু দেশের উন্নতির খবর রাজাকে পড়িয়া শুনাইতো।
সম্রাট আকবর ডাইনিং টেবিলে বসিয়া রাত্রের আহার সম্পন্ন করিতেছিলেন। তাহার পার্শ্বে রানী যোধা দাঁড়াইয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ভিতর ঘামিতেছিলেন। রান্না খারাপ হইলে তাহাকে সম্রাট ঝাড়ি দিবেন - অপর দিকে হিন্দি সিরিয়াল শেষ হইয়া যাইতেছে সেই আশংকায়। এমন সময় সেলিমের প্রবেশ।

সেলিমঃ পিতা , আমাকে স্মরন করেছেন ?
সম্রাট আকবরঃ হুম। স্মরন না করে উপায় কি ? আসার পর আর দেখাও করলে না, আর তোমার টিকিও তো খুঁজে পাওয়া যায়না। দেশে আসার পর কোথায় রাজকার্যে সাহায্য করবে না, ঘুরে ঘুরে খরচ করে রাজকোষের টাকা খরচ করে ফেলছো। জানো, আমার মাত্র একটি ভাঙ্গা সুটকেস । রাজকোষ হতে আমি কোন খরচ নেই না। শুধু এই ৮ বিঘার উপর রাজবাড়ীটা দখল করে রেখেছি , ভাবছি নিজের নামেই করে ফেলবো অবশ্য। যাই হোক, তোমার মতি গতি আমার ভালো লাগছে না। তাই শীঘ্রই তোমাকে বিবাহ দিব বলে স্থির করেছি। তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা।
সেলিমঃ কিন্তু বাবা আমি তো এস এস সি তে জিপিএ 3.8 পাইছি।
সম্রাট আকবরঃ 

শাহজাদা সেলিম সাহস করিয়া ঐ মুহূর্তে রাজাকে তাহার প্রেমের কথা বলিয়াই ফেলিল। রাজা দেখিলেন, যাহা শুনিয়াছেন , তাহা মিথ্যা নহে। তিনি সেলিম কে বলিলেন-
- তাহলে একটা DJ party আয়োজন করা হবে, সেখানে তুমি মাহমুদ কলি কে নিয়া আইসো।
সেলিমঃ বাবা মাহমুদ কলি না , আনারকলি।
সম্রাট আকবরঃ ঐ হোল, কলি ই তো ।

সপ্তম দৃশ্যঃ

রাজবাড়ীর ছাদে প্যান্ডেল টাঙ্গানো হইয়াছে। চ্যাঙড়া টাইপের কতগুলো ছোকড়া গানের কি কি সব জিনিসপাতি আনিয়া টেস্ট করিতেছে। তাহাদের প্যান্ট পড়িয়া যায় যায়, তাহার উপরে প্যান্টের বিভিন্ন স্থানে ছেঁড়া-ফাড়া। চিবুকের নিচে ছাগলের ন্যায় কতগুলি দাড়ি ঝুলিতেছে। চক্ষু রক্তবর্ন। ইহারা এ যুগের DJ। বীরবল ঘুরিয়া ঘুরিয়া সব তদারকি করিতেছে। বীরবল শুনিয়াছে এখন নাকি এরকম অনেক J নাকি পাওয়া যায় RJ , VJ, DJ , আরো কত কি যে !!!
রাত্রে পার্টি শুরু হইলো। অপরূপ সাজে আনারকলি উপস্থিত হইয়াছে সে অনুষ্ঠানে। পরনে দেবদাস শাড়ী। পারসোনা হইতে মেক আপ করাইয়া আসিয়াছে, অবশ্য সেখানে কোন গোপন ক্যামেরা ছিল না। সেলিম গিয়া তাহাকে অভ্যর্থনা জানাইলো।
তাহার পর আনারকলি আসিতেই সম্রাট আকবর হাতে ম্যাঙ্গো জুশ নিয়া পার্টির উদ্বোধন ঘোষনা করিলেন।
ম্যাঙ্গো জুশ নিয়াই সকলে নাচিতে আরম্ভ করিলো। কিন্তু তাহাতে এলকোহল না থাকায় কিছুক্ষন পর এক এক সকলে ক্লান্ত হইয়া বসিয়া পড়িতে লাগিলো। আনারকলি একাই নাচিতে লাগিলো - তখন বাজিতেছিল - পেয়ার কিয়া তো ডরনা কিয়ার রিমিক্স ভার্সন।
নাচ শেষ হইবা মাত্র সম্রাট হাততালি দিতে দিতে উঠিয়া দাড়াইলেন। 

অষ্টম দৃশ্যঃ

সম্রাট আকবর পকেট থেকে বের করা স্বর্নের চেইন টা আনারকলির দিকে বাড়াইয়া ধরিলেন।

সম্রাট আকবরঃ তোমার নাচের জন্য ইনাম । আর এই চেইন নিয়ে এক্ষুনি বের হয়ে যাও রাজপ্রাসাদ থেকে। নর্তকি হয়ে তুমি শাহজাদার দিকে হাত বাড়ায়েছো !! সাহস কম তো কম না তোমার।

যোধা বাই দেখিলেন - ইহা তাহার চেইন, রাজা চুরি করিয়া আনিয়াছেন 

আনারকলিঃ চৌধূরী সাহেব !!! টাকা দিয়ে ভালোবাসা কেনা যায়না। আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু ফকির না। ভুলে যাবেন না চৌধূরী সাহেব, রাজা-প্রজা গরু ছাগল সবার রক্ত লাল। লাগবে না আপনার স্বর্নের চেইন। চৌধূরী সাহেব , আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে সেলিম কে আমি ভালোবেসেছি । দেহ মন সব দিয়ে দিয়েছি তাঁকে । সেলিম ছাড়া আমি একদিন বাঁচবো না । বলেই আনারকলি দু হাত দিয়ে মুখ ঢাকিয়া ডুকরে কাদিয়া উঠিল।
সম্রাট আকবরঃ খামোশ। মুঘল সম্রাট কে তুমি চৌধূরী সাহেব বলো !!! 
আনারকলিঃ (ফিস ফিস করে) সব দোষ সাকিবের । কেন যে সকালে ওর সিনেমা দেখতে গেছিলাম 

সেলিমঃ বাবা, আনারকলি কে তুমি এভাবে বলতে পারলে? I love her. I love her
সম্রাট আকবরঃ চুপ বেদ্দপ। মুখে মুখে কথা ।
সম্রাটের ঝারি খেয়েই সেলিম মুখ নিচু করে বাহির হইয়া গেল প্রাসাদ ছাড়িয়া। আনারকলিকে বেয়াদবির কারনে সম্রাট তাহাকে বাহির করিবার আদেশ করিলেন।

আনারকলি রক্তিম মুখে রাজপ্রাসাদ হইতে বাহির হইয়া তৎক্ষণাৎ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করিয়া ফেলিলেন। প্রেসক্লাবে সেই গভীর রাত্রিতে আনারকলির ব্রিফিং কভার করিবার জন্য প্রিন্ট মিডিয়া, টিভি মিডিয়া, রেডিও মিডিয়ার লোক গিজগিজ করিতে লাগিলো। ঠেলিয়া ধাক্কাইয়া তাহারা আনারকলির সম্মুখে যাইয়া মাইক্রফোন বসাইবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হইলো যেন। এক অপরকে সরাইয়া টিভি ক্যামেরা বসাইলো।
আনারকলি কাঁদিয়া কাঁদিয়া সবিস্তারে তাহার উপর অকথ্য নির্যাতনের বর্ননা প্রদান করিতে লাগিলো। বক্তব্য শেষে টেবিলে মাথা রাখিয়া ডুকরে কাঁদিয়া উঠিলো সে।

নবম দৃশ্যঃ

আনারকলির উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে পরদিন সম্মিলিত নারী সমাজ , নারী আন্দোলনের ব্যাক্তিত্বরা অগ্নিশর্মা হইয়া উঠিলেন। এর প্রতিবাদে পরদিন এক মানব বন্ধনের ডাক দিলেন তারা। সকাল দশ  ঘটিকায় মানব বন্ধন আরম্ভ হইবার কথা থাকিলেও নেত্রীরা পার্লার হইতে সাজিয়া আসিতে দেরী করার ফলে তাহা বেলা এক ঘটিকায় আরম্ভ হইলো। সেখানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড লইয়া সকলে দাড়াইয়া গল্প করিতে লাগিলো। টিভি, সংবাদপত্র ক্যামেরা দেখিবা মাত্রই তাহারা হাতে হাত রাখিয়া আনারকলির উপর সম্রাটের নির্যাতনের বিচার চাহিয়া বিক্ষোভ প্রদর্শন করিতে লাগিলো। প্রতিবাদ স্বরুপ তাহারা নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা ব্যবহার করিয়া সম্রাট কে ভৎসর্না করিতে লাগিলো। প্রয়োজনে হরতাল আহবান করিতে দ্বিধা করিবেনা বলিয়া  জানাইয়াছে তাহারা।

সম্রাট আকবর  বসিয়া টিভির স্যাটেলাইট চ্যানেলে তাহদের প্রতিবাদ দেখিতেছিলেন। প্রতিবাদের ভাষা শুনিয়া  উপায়ন্তর না দেখিয়া সম্রাট মন্ত্রীসভার বিশেষ বৈঠক আহ্বান করিলেন।

মন্ত্রীসভার বৈঠকে আনারকলির ইস্যু সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব লইয়া আলোচনা হইল।

সভাশেষে বীরবলের উপদেশে সম্রাট ফখরুদ্দিন ও মইনুদ্দিন নামক দুই ব্যাক্তি কে তাহার দরবারে ডাকিয়া পাঠাইলেন।

তাহাদের সহিত দীর্ঘক্ষন শলাপরামর্শ করিয়া আনারকলি কে গৃহবন্দি করিবেন বলিয়া ঠিক করিলেন। উক্ত দুই ব্যাক্তি নারীদের গৃহবন্দি করিবার ক্ষেত্রে বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তাহারা সম্রাট কে নারীদের বন্দি করিবার পর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা কি হইতে পারে, তাহা সবিস্তারে বর্ননা করিলেন। সম্রাট তাহাদের কথা মনযোগ সহকারে শুনিয়া সাব্যাস্ত করিলেন - আনারকলি কে গৃহবন্দি করিবার পর শাহজাদা সেলিম কে পুনরায় দেশের বাইরে পাঠানোই উত্তম।

পরিকল্পনা মতো সম্রাট আনারকলিকে গ্রেফতার করিয়া একখানা গৃহে বন্দি করিলেন। পত্রিকা অফিস ও শাহজাদা কে জানাইয়া দেয়া হইলো - আনারকলি র‍্যাব এর ক্রস ফায়ারে পড়িয়া মারা গিয়াছে।

দশম দৃশ্যঃ

আনারকলির মৃত্যু সংবাদ শুনিবা মাত্রই শাহজাদা সেলিম ই মেইল করিয়া সেনাবাহীনির এক অংশ কে খেপাইয়া তুলিয়াছেন। সেনাবাহিনীর সেই অংশ ক্যু করিবার জন্য প্রস্তুতিও লইতেছিল। কিন্তু তাহাদের অংশের একজন সেনা অফিসারের পেটে কথা না রাখিবার অসুখের কারনে তাহা ফাস হইয়া যায়। ফলে ক্যু করিবার প্রস্তুতি লইতে না লইতেই উহা ব্যার্থ হইয়া যায়। সম্রাট তাহার নিজের কীর্তি হিসাবে ঢোল পিটাইয়া রাজ্যময় সেই ক্যু পরিকল্পনা ফাস হবার গল্প প্রচার করিতে থাকে। 

সম্রাট শাহজাদা কে আটক করিয়া বিলাত যাইতে আদেশ করে। আদেশ পাইয়া, এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখিয়া সেলিম বিলাতের পথে যাত্রা করিলেন।

যাইবার কালে facebook এ status এ লিখিলো "anarkoli suckzz" ।

আর ওদিকে আনারকলিকে সম্রাট চুপি চুপি গৃহবন্দি হইতে মুক্ত করিয়া পাঠাইয়া দিলেন সৌদি আরব, যেন সে সাচ্চা মুসলমান হইয়া জীবন যাপন করিতে পারে।

এভাবেই সমাপ্ত হইলো একটি প্রেমের করুণ পরিনতি । তাহাদের মিলন হইলো না আর।
===== সমাপ্ত======













কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন