ধর্ম হল মনকে পবিত্র রাখা অথবা রিপুকে সংযত রাখার চেষ্টা । আর ধর্মিয় অনুষ্ঠান পালন করা মানে হল মনকে সংযত করা আর রিপুকে দমন করার পন্থা । কোরবানি সেরকম একটা ধর্মিয় অনুষ্ঠানের মধ্যে একটা। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য ওয়াজিব। ইব্রাহিম (আঃ) এর উপর আল্লাহর আদেশ ছিল তাঁর সবচাইতে প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার। তার কারণ কী ?
পৃথিবীতে মানুষের সবচাইতে প্রিয় বস্তু যা তাঁর উপর মানুষের বিরাট মোহ সৃষ্টি হয়। এই মোহ রূপি রিপু টাকে দমন করার জন্যই আল্লাহতায়ালা বলেছিলেন সবথেকে প্রিয় বস্তুটাকে উৎসর্গ করতে। বাজারের গরু ছাগল কী আমাদের এতই প্রিয় বস্তু হয়ে গেল ? তিনি তো বলেন নি বাজার থেকে গরু ছাগল কিনে এনে তিনদিন ধরে গোশত খাওয়ার উৎসব করতে। যখন পৃথিবীর কোটি কোটি লোক অনাহারে মারা যাচ্ছে তখন কোরবানির সময় হজ্জ্বের পর লক্ষ লক্ষ জবাই করা পশুর গোশত মাটির নিচে চাপা দিয়ে নষ্ট করে ফেলতে আল্লাহ কী বলেছেন ? আজ আমাদের এই অনুষ্ঠান গুলো কী অন্তঃসার শূন্য হয়ে যায়নি ? মানব কল্যাণের পরিবর্তে মানব অকল্যাণ কি বয়ে আনছে না ?
আস্তে আস্তে আমরা ধর্মিয় অনুষ্ঠানগুলোর আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলছি। কোরবানি দেয়ার আসল উদ্দেশ্য যেখানে মোহ ত্যাগ করা সেখানে আমরা এই অনুষ্ঠান কে পরিণত করেছি গোশত খাওয়ার উৎসবে। আবার আজকাল ধর্মগুরুরা কোরবানিকে এই বলেন যে - কোরবানির পশুর গায়ে যতগুলি পশম হবে ততগুলি ছওয়াব পাওয়া যাবে। মানে খুব বেশী ছওয়াব হাসিল করার লোভ মানুষের মনে জাগিয়ে দেয়া যাতে মানুষ বেশী বেশী করে কোরবানি করে। এখন ভেবে দেখার বিষয় এই যে, কোরবানি করার প্রকৃত উদ্দেশ্য আজ কোথা থেকে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য যেখানে মোহ ত্যাগ করা সেখানে আজকাল আমরা শুধু ছওয়াবের লোভে কোরবানি করছি। মানে সংযমের বদলে লোভ কে প্রশ্রয় দিচ্ছি। কিন্তু আল্লাহ কী তাই চান ? উদ্দেশ্য বিহীন কোন অনুষ্ঠানের দায় আছে কী ?
অবশ্য তার মানে এই নয় যে কোরবানি বাদ দিতে হবে। কোরবানি বা উৎসর্গ আমাদেরকে করতে হবে। তবে তার জন্য যে গরু জবাই করতে হবে তার কোন যৌক্তিকতা নাই। কোরবানি অনুষ্ঠান পালনের উদ্দেশ্য উদ্দেশ্য যেখানে এই পার্থিব জীবনের সবচাইতে প্রিয় বস্তুর উপর থেকে মোহ বা মায়া ত্যাগ করা, সেখানে গরু ছাগল অথবা আমার সবচাইতে প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার নিয়ত করে কোন গরীব লোক কে তা দানও করতে পারি। তাঁতে আরো ভালো হয়না কী ? এতে আমার মন থেকে ঐ মোহ কাটল আবার ঐ উৎসর্গীকৃত জিনিষে কোন গরীব লোকের চরম দৈন্য দশা লাঘব হল।
যে দেশে বহু লোক দারিদ্য সীমার নিচে দিন কাটাচ্ছে, সেদেশে ধর্মিয় অনুষ্ঠানের নামে প্রত্যেক বছর লক্ষ লক্ষ গৃহপালিত পশু হত্যা করা ধর্মান্ধতার চরম গোঁড়ামি নয় কী ? ইসলাম ধর্মের প্রতিটি অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তঃসার শূন্য অনুষ্ঠানের জন্য আজকাল মুসলমানরা পৃথিবীর বুকে লাঞ্চিত, গঞ্ছিত হচ্ছে। যে সব জাতির মধ্যে এই মানবিক ও চারিত্রিক দায়িত্ববোধ যত বেশী, তারাই তত পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তার করছে । মানব জাতির সবাই যদি মোহ ত্যাগ করতে পারি তাহলে পৃথিবীতে অন্যায় অত্যাচার থাকতে পারে না।
[ রচনাঃ মরহুম রফিক সাঈদ। আমার বাবা। রচনাকালঃ আনুমানিক ১৯৭৯/১৯৮০]
পৃথিবীতে মানুষের সবচাইতে প্রিয় বস্তু যা তাঁর উপর মানুষের বিরাট মোহ সৃষ্টি হয়। এই মোহ রূপি রিপু টাকে দমন করার জন্যই আল্লাহতায়ালা বলেছিলেন সবথেকে প্রিয় বস্তুটাকে উৎসর্গ করতে। বাজারের গরু ছাগল কী আমাদের এতই প্রিয় বস্তু হয়ে গেল ? তিনি তো বলেন নি বাজার থেকে গরু ছাগল কিনে এনে তিনদিন ধরে গোশত খাওয়ার উৎসব করতে। যখন পৃথিবীর কোটি কোটি লোক অনাহারে মারা যাচ্ছে তখন কোরবানির সময় হজ্জ্বের পর লক্ষ লক্ষ জবাই করা পশুর গোশত মাটির নিচে চাপা দিয়ে নষ্ট করে ফেলতে আল্লাহ কী বলেছেন ? আজ আমাদের এই অনুষ্ঠান গুলো কী অন্তঃসার শূন্য হয়ে যায়নি ? মানব কল্যাণের পরিবর্তে মানব অকল্যাণ কি বয়ে আনছে না ?
আস্তে আস্তে আমরা ধর্মিয় অনুষ্ঠানগুলোর আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলছি। কোরবানি দেয়ার আসল উদ্দেশ্য যেখানে মোহ ত্যাগ করা সেখানে আমরা এই অনুষ্ঠান কে পরিণত করেছি গোশত খাওয়ার উৎসবে। আবার আজকাল ধর্মগুরুরা কোরবানিকে এই বলেন যে - কোরবানির পশুর গায়ে যতগুলি পশম হবে ততগুলি ছওয়াব পাওয়া যাবে। মানে খুব বেশী ছওয়াব হাসিল করার লোভ মানুষের মনে জাগিয়ে দেয়া যাতে মানুষ বেশী বেশী করে কোরবানি করে। এখন ভেবে দেখার বিষয় এই যে, কোরবানি করার প্রকৃত উদ্দেশ্য আজ কোথা থেকে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য যেখানে মোহ ত্যাগ করা সেখানে আজকাল আমরা শুধু ছওয়াবের লোভে কোরবানি করছি। মানে সংযমের বদলে লোভ কে প্রশ্রয় দিচ্ছি। কিন্তু আল্লাহ কী তাই চান ? উদ্দেশ্য বিহীন কোন অনুষ্ঠানের দায় আছে কী ?
অবশ্য তার মানে এই নয় যে কোরবানি বাদ দিতে হবে। কোরবানি বা উৎসর্গ আমাদেরকে করতে হবে। তবে তার জন্য যে গরু জবাই করতে হবে তার কোন যৌক্তিকতা নাই। কোরবানি অনুষ্ঠান পালনের উদ্দেশ্য উদ্দেশ্য যেখানে এই পার্থিব জীবনের সবচাইতে প্রিয় বস্তুর উপর থেকে মোহ বা মায়া ত্যাগ করা, সেখানে গরু ছাগল অথবা আমার সবচাইতে প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার নিয়ত করে কোন গরীব লোক কে তা দানও করতে পারি। তাঁতে আরো ভালো হয়না কী ? এতে আমার মন থেকে ঐ মোহ কাটল আবার ঐ উৎসর্গীকৃত জিনিষে কোন গরীব লোকের চরম দৈন্য দশা লাঘব হল।
যে দেশে বহু লোক দারিদ্য সীমার নিচে দিন কাটাচ্ছে, সেদেশে ধর্মিয় অনুষ্ঠানের নামে প্রত্যেক বছর লক্ষ লক্ষ গৃহপালিত পশু হত্যা করা ধর্মান্ধতার চরম গোঁড়ামি নয় কী ? ইসলাম ধর্মের প্রতিটি অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তঃসার শূন্য অনুষ্ঠানের জন্য আজকাল মুসলমানরা পৃথিবীর বুকে লাঞ্চিত, গঞ্ছিত হচ্ছে। যে সব জাতির মধ্যে এই মানবিক ও চারিত্রিক দায়িত্ববোধ যত বেশী, তারাই তত পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তার করছে । মানব জাতির সবাই যদি মোহ ত্যাগ করতে পারি তাহলে পৃথিবীতে অন্যায় অত্যাচার থাকতে পারে না।
[ রচনাঃ মরহুম রফিক সাঈদ। আমার বাবা। রচনাকালঃ আনুমানিক ১৯৭৯/১৯৮০]
(y
উত্তরমুছুন)
:)
উত্তরমুছুন(y)
উত্তরমুছুন